অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বেশ ক’টি গ্রাম দখল করেছে ক্রেমলিনের বাহিনী। রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ ইউক্রেনে অবস্থানরত মস্কোর সেনাদের পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জেনেভায় কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা শুরুর কয়েক দিন আগে গেরাসিমভের এ সফর অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ইউক্রেনে মস্কোর পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের চতুর্থ বার্ষিকীও ঘনিয়ে আসছে।
মস্কো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
গেরাসিমভ বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে, কঠোর শীতকালীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও, যৌথ টাস্কফোর্সের সমন্বিত বাহিনী ও সামরিক ইউনিট ১২টি বসতি মুক্ত করেছে।’
এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি।
শরৎকাল থেকে মস্কোর অগ্রযাত্রার গতি বেড়েছে। তবে চার বছরের যুদ্ধে দোনেৎস্ক অঞ্চল পুরোপুরি দখলের লক্ষ্য এখনও অর্জন করতে পারেনি রাশিয়া।
সংঘাত অবসানের যে কোনো চুক্তির জন্য দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে কিয়েভকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন এ শর্ত মেনে নেয়নি।
গেরাসিমভ বলেন, রুশ বাহিনী শিল্পনগরী স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ২০১৪ সালে শহরটি স্বল্প সময়ের জন্য রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে ছিল। এরপর থেকে শহরটি প্রায়ই রুশ হামলার মুখে পড়ছে।
মস্কোর বাহিনী বর্তমানে শহরটি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।
মস্কো দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে।
তবে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও অগ্রসর হয়েছে রাশিয়া।
গেরাসিমভ বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুমি ও খারকিভ সীমান্ত এলাকায় রাশিয়া নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণ করছে। সেখানে কিছু অংশে তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অভিমুখে পরবর্তী পদক্ষেপ’ নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
গত গ্রীষ্মে পশ্চিমমুখী অগ্রযাত্রার সময় রুশ বাহিনী দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে প্রবেশ করে। তবে অঞ্চলটির ওপর আনুষ্ঠানিক দাবি কখনও জানায়নি ক্রেমলিন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগ করে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল দখল করতে মস্কো বদ্ধপরিকর।