অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : চলমান ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নজিরবিহীন ধস নেমেছে এবং তাঁর জনসমর্থন এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্ট-এর একটি নতুন জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্টের কাজের ওপর আস্থা রাখছেন।
অন্যদিকে, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর কার্যক্রমের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে ৫৩ শতাংশই ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ক্রমাগত হ্রাস পাওয়াই ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জরিপ অনুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন প্রশাসনের হামলা চালানোর কৌশলটি মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ সমর্থন করছেন, যেখানে ৬৩ শতাংশ সরাসরি এর বিরোধিতা করেছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে, যার ফলে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বসহ অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে।
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে এই হামলার মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে প্রায় এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ এখন এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট এখন পর্যন্ত স্থল অভিযান থেকে পিছিয়ে আসার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি, যা সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ আমেরিকানদের পকেটে, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার অন্যতম বড় কারণ। সামরিক অভিযানের ফলে তেল, গ্যাস, সার, বিমান ভাড়া এমনকি বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৩ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক মাসের তুলনায় ১ ডলারেরও বেশি।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামও আকাশচুম্বী হয়েছে, যা মার্কিন অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতাকে তাঁর জনপ্রিয়তায় ধস নামার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন।
মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মাত্র ২৪ শতাংশ মানুষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। অন্যদিকে, ৭১ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে তিনি এ ক্ষেত্রে মোটেও ভালো কাজ করতে পারেননি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বাড়বে এবং অর্থনৈতিক চাপ যত প্রকট হবে, ট্রাম্পের জন্য আগামী নির্বাচনে টিকে থাকা ততটাই কঠিন হয়ে পড়বে। হোয়াইট হাউস বর্তমানে এই জনমতের চাপ মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।