অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্য সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি বলে দেশবাসীকে আবারও আশ্বস্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গতকাল বুধবার সকালে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই ঝড় যতই ভয়াবহ হোক না কেন, তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এই সংঘাতে জড়াব না।’ তবে প্রধানমন্ত্রীর এমন দাবির মধ্যেই ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর মার্কিন বোমাবর্ষণের ঘটনায় জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৫টি দেশের একটি সমন্বিত জোট গঠনের ঘোষণা দেন। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’কে নিরাপদ ও নৌ-চলাচলের উপযোগী করে তোলা। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিবের সভাপতিত্বে এই দেশগুলোর প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসবেন। স্টারমার স্বীকার করেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা সহজ কাজ হবে না এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের রূপ নিতে পারে।
এদিকে, স্টারমার যুদ্ধে না জড়ানোর দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে বর্তমানে ২৩টি মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু বিমান অবস্থান করছে, যা ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সাইয়েদ আলী মুসাভি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার অর্থ হলো ‘আগ্রাসনে অংশগ্রহণ’ করা এবং তেহরান পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় শেষ, তখন স্টারমার অনেক বেশি সতর্ক। ট্রাম্পের ‘নিজেদের তেল নিজেরা জোগাড় করো’— এমন তির্যক মন্তব্যের বিপরীতে স্টারমার বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেই হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো ব্রিটিশ জনগণকে ব্যক্তিগত জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার কোনো কড়া নির্দেশ দেননি তিনি। পরিবর্তে, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি শুল্ক ও বিলে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের পূর্বঘোষিত ব্যবস্থা বহাল রাখার কথা জানান।
চলতি বছর মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচন এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের চাপে কিয়ার স্টারমার এক কঠিন সময় পার করছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এই সংকট কাটিয়ে ব্রিটেন এক শক্তিশালী ও সুরক্ষিত জাতি হিসেবে আবির্ভূত হবে। এদিকে ওয়াশিংটনের চাপ এবং তেহরানের হুমকির মুখে লন্ডন তার এই ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান কতদিন বজায় রাখতে পারে।