অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে সমর্থন না জানানোয় মিত্র দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে ওয়াশিংটনকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হওয়া ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বেশ কিছু বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্পেনকে সামরিক জোট ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পেন্টাগনের ওই ইমেইলে কেবল স্পেনের বিরুদ্ধেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়েছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের মালিকানার দাবির বিষয়ে ওয়াশিংটন তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ফকল্যান্ড ইস্যুতে লন্ডনের পাশে থাকলেও, ইরান যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সমর্থন না পাওয়ায় দেশটি এখন এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেন্টাগনের এই ধরনের প্রস্তাব মূলত ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর মার্কিন সামরিক এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার একটি চরম বহিঃপ্রকাশ।
Thumbnail Toshif Hasan (4)
পেন্টাগনের এই অভ্যন্তরীণ আলোচনা এখন প্রকাশ্যে চলে আসায় ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ইউক্রেন সংকট বা অন্য কোনো বৈশ্বিক ইস্যুতে যেখানে ন্যাটোর ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা, সেখানে একক কোনো দেশের সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় পুরো একটি রাষ্ট্রকে বহিষ্কারের প্রস্তাব জোটের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
স্পেনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মাদ্রিদ এই পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক ন্যাটো সদস্য দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। ওয়াশিংটন মনে করছে, এই অনীহা তাদের সামরিক কৌশলের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই ভবিষ্যতে যাতে অন্য কোনো দেশ মার্কিন অভিযানের বিরোধিতা না করে, তা নিশ্চিত করতে স্পেন ও যুক্তরাজ্যের ওপর এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাইছে পেন্টাগন। তবে এই পদক্ষেপ যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সম্পর্কে স্থায়ী ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।