অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আগামী দেড় থেকে দুই মাস লোডশেডিং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কোনো কোনো সময়ে তা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা ও জ্বালানি আমদানির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল, কয়লা ও এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ বাড়ছে।
পাওয়ার গ্রিড সূত্র জানায়, সম্প্রতি একদিন বিকেলে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৬৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট, যা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়।
এদিকে কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে, যা শিগগির চালু হওয়ার কথা। একই সঙ্গে বাঁশখালীর একটি কেন্দ্র থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এপ্রিলের শেষ এবং মে মাসের শুরুতে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে যেখানে দৈনিক প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে উৎপাদন অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে।
উচ্চমূল্যের কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উৎপাদন ঘাটতি আরও বেড়েছে। সরকার মূলত গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালু রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয়ের নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপও দ্রুত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানির দাম ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি আমদানিতে স্থিতিশীলতা না ফিরলে বিদ্যুৎ খাতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।