July 25, 2026, 3:34 pm
শিরোনামঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে : আইনমন্ত্রী বস্তুনিষ্ঠ ও ডেটাভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় প্রকৃত সাংবাদিকতা : তথ্যমন্ত্রী নেত্রকোণায় ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ পালিত চট্টগ্রামে ডিবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ জন আটক গোপনে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে প্রথমবারের মতো ইরানে হামলা চালালো বাহরাইন ও কুয়েত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল ভেনেজুয়েলা ইরানে কঠোর হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

ফারুক আহমেদ, মাগুরা : মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ইউইও) মোসাঃ হেনায়ারা খানম গত বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে শালিখা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ২৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক সংস্করণ আনা বাবদ ৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের নিয়োগকৃত শিক্ষকদের GPF হিসাব খুলতে ২০০০ হাজার টাকা চেয়েছে। ২০২৫ সালে ৪০-৪২ টি প্রাক-প্রাথমিক বই আনার খরচ বাবদ ১০০ টাকা নিয়েছে।

শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, ইউইও হেনায়ারা খানমকে ঘিরে বিতর্ক।

মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউইও) হেনায়ারা খানমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের হয়রানি এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মচারীর লিখিত অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের চিঠিপত্র ও প্রশাসনিক নথিপত্রে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। নথিপত্র অনুযায়ী, হেনায়ারা খানম ১৯ অক্টোবর শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। এর আগে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ঘুষ, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে তার বেতন নিম্নধাপে নামিয়ে আনা হয় এবং ২০২৭ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়।দড়িশলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা, বুনাগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার, শিক্ষক ভৈরব বিশ্বাস ও হিসাব সহকারী সমীর বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মেডিকেল বিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি, বিদেশ গমন, জিপিএফ ঋণ, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, স্লিপ বরাদ্দ, প্রাক-প্রাথমিক বরাদ্দ ও পেনশন ফাইলসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে অর্থ দাবি করা হতো। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, শোকজ এবং হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, অফিসের পিয়ন রকিব হোসেন ঘুষ আদায়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন। শিক্ষকদের দাবি, ২০২৬ সালে শতাধিক শিক্ষকের শ্রান্তি বিনোদন ভাতার বিল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়ার পর বিল নিষ্পত্তি করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে শ্রান্তি বিনোদন ভাতার বিলে স্বাক্ষর ঘাটতি, ব্যাকডেটে স্বাক্ষর এবং বিধিবহির্ভূত ছুটি অনুমোদনের মতো অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বিল ফেরত পাঠানো হয়।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে কয়েকজন শিক্ষককে মৌখিকভাবে ডেপুটেশন দেওয়ার বিষয়ে ইউইওর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয় এবং ডেপুটেশনপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা তলব করা হয়।একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, শিশুদের পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত দুধ বিভিন্ন স্কুল থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাটুরা রামানন্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৪০ প্যাকেট এবং শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫৫ প্যাকেট দুধ নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আনা হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে,যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে শোকজ,ঘন ঘন বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সবুজ আলী ও প্রধান শিক্ষক সোলায়মানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অভিযোগের নথি রয়েছে।

 

উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী সমীর কুমারের ২৩ মে ২০২৬ তারিখের এক লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অফিস চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনার সময় ইউইও উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।

 

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, স্লিপ বরাদ্দের বিল পাসে প্রতি বিদ্যালয় থেকে ৬০০ টাকা এবং প্রাক-প্রাথমিক বরাদ্দের জন্য ৪০০ টাকা করে নেওয়া হতো। এছাড়া পেনশন ও জিপিএফ উত্তোলনসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি,শালিখা উপজেলার অন্তত ১০ জন শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। মাগুরা জেলা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, “তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে।” অভিযোগের বিষয়ে ইউইও হেনায়ারা খানম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা।”

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌস বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত আছি।” প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখওয়াত হোসেন বলেন, “শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ইউইও হেনায়ারা খানমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রয়েছে এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়াধীন।”

 

এবিষয়ে শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোসাঃ হেনায়ারা খানমের সাথে কথা বলতে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি, মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা যায় তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে যাচ্ছেন কখন আসবেন তা বলতে পারছেন না।

 

 

আজকের বাংলা তারিখ

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page