অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিম তীরের দুটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ‘অপরাধমূলক সহিংসতা’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পশ্চিম তীরের কুসরা ও জালুদ গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, কুসরা ও জালুদ গ্রামে একদল দাঙ্গাবাজের চালানো অপরাধমূলক সহিংসতার তিনি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি আইন মেনে চলা ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্যও ক্ষতিকর এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে শনিবার কুসরা গ্রামে কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারী হামলা চালায়। একটি বাড়িতে ফিলিস্তিনিরা কাজ করার সময় প্রথমে কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী সেখানে গিয়ে তাদের হুমকি দেয়। পরে আরও লোকজন জড়ো করে বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।
হামলার খবর পেয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও সীমান্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সামরিক বাহিনীর দাবি, সেখানে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সংঘর্ষ চলছিল। এ ঘটনায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে নিরাপত্তা বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। হামলায় ব্যবহারের সন্দেহে কয়েকটি যানবাহন জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। একই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক বসবাস করছেন।
ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিনের হলেও ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে এ ধরনের হামলা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময় থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় পশ্চিম তীরে অন্তত ১ হাজার ১০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।