ইয়ানূর রহমান : ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের পর পুলিশের হাতে আটক ও কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন দুই বাংলাদেশি নারী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত (আইসিপি) দিয়ে তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
ফেরত আসা দুই নারী হলেন, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ঘাঘা গ্রামের বি এম ল্যাবুর মেয়ে লাবনী বিশ্বাস এবং নড়াইল সদর থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষখোলা এলাকার জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মেয়ে মনি বিশ্বাস।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভালো কাজ ও জীবিকার আশায় তাঁরা ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধপথে ভারতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা পুলিশের হাতে আটক হলে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর বোম্মানাহাল্লি থানাসহ স্থানীয় আদালতের বিচারে কারাভোগ করেন। সাজা শেষে তাঁদের বেঙ্গালুরুর ‘বালামন্দির চাইল্ড হোমে’ রাখা হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতের চেন্নাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে গত ৩ জুলাই ইস্যুকৃত ‘ট্রাভেল পারমিট’ এবং ব্যাঙ্গালোর এফআরআরও দপ্তর থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ইস্যুকৃত এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাঁদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় প্রত্যাবাসনকালে ভারতের পক্ষে হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ, ১০২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার এবং বোম্মানাহাল্লি থানার সাব-ইন্সপেক্টর উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (আইসিপি) কোম্পানি কমান্ডার তাঁদের গ্রহণ করেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ফেরত আসা দুই নারীকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই নারীকে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশোর ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি এনজিও সংস্থা গ্রহণ করেছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, “তাঁদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনেরা পৌঁছালে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের শেল্টার হোমে নিরাপদ হেফাজতে থাকবেন।”