অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশ গণতন্ত্রের চর্চা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ‘ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশী’ ভারতসহ সব বন্ধুদেশের সহায়তা ও সমর্থন প্রত্যাশা করে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুস্তাফিজুর রহমান। শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার প্রাথমিক মন্তব্যের পর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।
বাংলাদেশ অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গণতান্ত্রিক আবহ অর্জন করেছে’ উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ‘দেশে এখন যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে, তা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন ভিসানীতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন আসে। এসব প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতেও তা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক দুনিয়ার লক্ষ্যও তা। বাংলাদেশও তাই চায়।’
‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল’ বলে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ‘এই সরকারের আমলে অতীতে জাতীয় ও স্থানীয় অনেক নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বর্তমানেও হচ্ছে। এই অর্জন সহজে হয়নি। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।’
‘একমাত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই গণতন্ত্রের এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে জানতে চাওয়া হয়, গণতন্ত্রের স্বার্থে ভারতের নির্বাচন কমিশনের সহায়তা নিতে বাংলাদেশ আগ্রহী কি না। এমন প্রশ্নে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে ভোট করানোর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তারাই ঠিক করবে অন্য কারও সাহায্য-সহায়তা বা পরামর্শ প্রয়োজন কি না।’
দেশ হিসেবে ভারতের সাহায্য ও সমর্থন বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ- এ প্রশ্নে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু। স্বাধীনতা সংগ্রামে এই দেশের অবদান অনস্বীকার্য। এই বন্ধুতার ব্যাপ্তি গত পাঁচ দশক। বাংলাদেশ তার গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে সব বন্ধুদেশের সাহায্য ও সমর্থনপ্রত্যাশী।’
‘ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশী ও পরম সুহৃদ হিসেবে ভারতের সাহায্যও বাংলাদেশ সব সময় প্রত্যাশা করে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় প্রশ্ন আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে। এ বিষয়ে সরকার দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে হাইকমিশনার বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে সবদিকেই ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শান্তি ও প্রগতির কৃতিত্বও শেখ হাসিনার বলে দাবি হাইকমিশনারের। বলেন, ‘তার অনুসৃত নীতি এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে শান্ত করেছে। উন্নতির সোপানে বসিয়েছে।’
নানা প্রশ্নোত্তরের মধ্যে দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনের বিষয়টির তুলে ধরেন মুস্তাফিজুর রহমান। বলেন, এটা ত্বরান্বিত হওয়া প্রয়োজন; বিশেষ করে তিস্তার। উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষের জন্য এই জট দ্রুত খোলা দরকার বলে জানান তিনি।