অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্মিলিত ব্যবস্থার বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করার জন্য রাশিয়া এবং চীনকে অভিযুক্ত করেছে আমেরিকা। গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই অভিযোগ আনেন মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড।
এর একদিন আগে উত্তর কোরিয়া একটি সামরিক গোয়েন্দা উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর চেষ্টা করে তবে তা ব্যর্থ হয়। উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ এর নিন্দা জানিয়ে আমেরিকা নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনে তবে তাতে ভেটো দায়ী রাশিয়া এবং চীন।
এ প্রসঙ্গে গ্রিনফিল্ড বলেন, ২০২২ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চীন এবং রাশিয়ার বাধা সৃষ্টির কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়া তাদের দায়িত্ব পালন করছে না বলেও অভিযোগ করেন টমাস গ্রিনফিল্ড। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চীন এবং রাশিয়ার বাধার কারণে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে পরমাণু হুমকি বেড়েই চলেছে।
গত মে মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব আনা হয়। তবে তাতে সরাসরি ভেটো দেয় রাশিয়া ও চীন। গত মাসে উত্তর কোরিয়ার সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চীন ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিরও নিন্দা জানান টমাস গ্রিনফিল্ড।
এর জবাবে চীন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতরা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করেন। তারা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মিলে কোরিয় উপদ্বীপে আমেরিকা যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর কারণে উত্তর কোরিয়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম সং বলেছেন, আমেরিকার পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান শত্রুতামূলক তৎপরতার কারণে পিয়ংইয়ং গোয়েন্দা কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে এবং এটি তার নিজের প্রতিরক্ষার জন্য বৈধ অধিকার।