April 5, 2026, 3:00 pm
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী কিছু শক্তি ধর্মকে সামনে নিয়ে রাজনীতি করতে চায় : মির্জা ফখরুল আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে এ ব্যপারে কোনো সন্দেহ নেই : অর্থমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ঝিনাইদহের মহেশপুরে ১৩ হাজার ৫০০ কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ ময়মনসিংহে চাচার দায়ের কোপে ভাতিজা নিহত বরগুনাকে হামের সংক্রমণের রেড জোন ঘোষণা চুক্তি করতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলেন ট্রাম্প মালদ্বীপে নির্বাচন একীভূতের প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান
এইমাত্রপাওয়াঃ

মরক্কোয় ভূমিকম্পে এক গ্রামের সবাই মৃত বা নিখোঁজ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মরক্কো ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বাড়ছে লাশের মিছিল। দেশেটির অ্যাটলাস পর্বতমালার তাফেঘাঘতে গ্রামের কোনো হদিস নেই। সব মানুষ হয় হাসপাতালে, আর না হয় মৃত।

ইট ও পাথরের তৈরি গ্রামের পুরনো ধাঁচের বাড়িগুলো কোনোভাবেই এই মাত্রার ভূমিকম্প সামাল দেয়ার মত ছিল না। গ্রামটিতে ২০০ জন বাসিন্দার মধ্যে ৯০ জনের মৃত্যুর খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরো অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা হাসান বলছিলেন, ‘তারা (নিখোঁজরা) সরে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। তাদের হাতে নিজেদের বাঁচানোর সময়ও ছিল না।’ হাসান বলছিলেন তার চাচা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। তাকে সেখান থেকে বের করার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

এদিকে, গ্রামে কারো কাছে এই মাত্রার ধ্বংসস্তূপ খোড়ার যন্ত্রপাতি নেই। আর তিন দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞরাও এসে পৌঁছায়নি সেখানে।

হাসান গণমাধ্যমকে আরো বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছেন এবং আমরা সবকিছুর জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এখন আমাদের সরকারের সহায়তা দরকার। তারা মানুষকে সাহায্য করার বিষয়ে অনেক দেরি করে ফেলেছে।’

গ্রামের আরেক প্রান্তে গিয়ে বেশ কিছু মানুষ একজন ব্যক্তিকে সমবেদনা জানাচ্ছেন। ওই ব্যক্তির নাম আব্দো রহমান। ভূমিকম্পে তার তিন ছেলে ও স্ত্রী মারা গেছে। বালি-পাথরের একটি স্তূপের দিকে নির্দেশ করে তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের বাড়ি ছিল ওখানে।’ একসময় তার বাড়ি থাকলেও এখন সেখানে কোনো বাড়ির চিহ্নও নেই।

ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর আব্দো রহমান তিন কিলোমিটার দৌড়ে তার বাড়ির দিকে আসেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি যেই পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন, সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। তার বাড়ির কাছে এসে চিৎকার করে তার ছেলেদের নাম ধরে ডাকাডাকি করেন। তার মতো আরো কয়েকজনও তখন তাদের পরিবারের সদস্যদের খুঁজছিলেন।

আব্দো রহমান বলেন, ‘গতকাল আমরা তাদের কবর দিয়েছি। যখন তাদের মরদেহ খুঁজে পাই, তখন তারা সবাই একসাথে গুটিশুটি মেরে ছিল। তিন ছেলেই ঘুমাচ্ছিল। ঘুমের মধ্যেই তারা মারা যায়।’

মরক্কোর অ্যাটলাস পর্বতমালা অঞ্চলের একের পর এক গ্রামে ঠিক এই চিত্রই এখন দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী এই সম্প্রদায়গুলো সাধারণত আধুনিক পৃথিবী থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্নই থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু এখন অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি বাইরের সাহায্য প্রয়োজন তাদের।

অ্যাটলাস পর্বতমালার মতো মরক্কোর আরো অনেক অঞ্চলেই জরুরি সেবা পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষকে। বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসী হাত দিয়ে বা তাদের কাছে থাকা বেলচা, শাবল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধার করছেন। আবার কিছুক্ষণ পর ঐ বেলচা আর শাবল দিয়েই মরদেহের জন্য কবরও খুঁড়তে হচ্ছে তাদের।

দেশটির সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দুই হাজার ১২২ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজারের মত মানুষ। সূত্র: বিবিসি।

 

আজকের বাংলা তারিখ

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  


Our Like Page