দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও ডিম আমদানি চান না কৃষিমন্ত্রী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশে নতুন করে ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা আমদানি করতে চান না কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি মনে করেন ব্যবসায়ীরা এক পর্যায়ে দাম কমিয়ে দিতে বাধ্য হবেন। এর জন্য ভোক্তাদের কিছু দিন অপেক্ষা করতে বললেন তিনি।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা একটু কষ্ট করি, তারপরও ডিম আমদানি করব না।

গত মাসের মাঝামাঝি দাম কমে স্থিতিশীল থাকার পর ডিমের বাজার ফের ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে এখন প্রতিডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। তবে মহল্লার দোকানে তা ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পোল্ট্রি ফিড ও পরিবহন খরচ বাড়ায় দাম বেড়েছে। আর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা আবারো ডিম নিয়ে খেলা শুরু করেছেন। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর ডিমের ডজন ১৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। পরে সরকারের অভিযান ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রয়োজনে ডিম আমদানির ঘোষণা দেয়ার পর ডজন ১২০ টাকায় নামে। এখন ফের ঊর্ধ্বমুখী।

নতুন করে ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দাম চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তবে একজন কৃষিবিদ হিসেবে বলতে পারি যাই দাম বাড়ুক দুই-তিন মাস পর, আমি লিখে দিতে পারি ডিম তারা (ব্যবসায়ীরা) বেচতেই পারবে না। এটা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

কীসের ভিত্তিতে বলছেন দুই-তিন মাস পর ডিম বিক্রি করতে পারবে না- এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘যখন দাম বাড়ছে সবাই ডিমে থেকে বাচ্চা তুলছে। কয়েকদিন আগেই ডিম বিক্রি করতে পারছিল না, আবার ব্রয়লার মুরগি ৯০-১০০ টাকা। গত তিন বছর ধরে এটা চলছে। পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা লস দিতে দিতে আর লস করতে রাজি না।’

নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো আলোচনা হয়নি। অসহযোগিতার কিছু নেই। তবে আমি আবারও বলছি নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দিয়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এটা বড় চ্যালেঞ্জ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে। বিশেষ করে কাঁচা পণ্য চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে।

মিয়নমারের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী ও আর্মড ফোর্সের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। মিয়ানমারের মতো দেশকে আমরা অবশ্যই মোকাবিলা করতে পারব। আর জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

তবে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যুদ্ধ চান না বলেও জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। বলেন, যুদ্ধ দিয়ে দেশটাকে পিছিয়ে দিতে চাই না।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আমাদের উন্নয়নটাকে সামনে নিয়ে যেতে চাই। উন্নয়নের যে ধারা বইছে সেটা যুদ্ধ দিয়ে দেশটাকে পিছিয়ে দিতে চাই না। আমাদের সরকারের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে। তারাও বার বার আশ্বস্ত করেছে, এগুলো অভ্যন্তরীণ বিষয়, মোকাবিলা করতে গিয়ে কিছু ইনসিডেন্ট হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ যুদ্ধ হবে না। আর মিয়ানমারও সে অবস্থায় নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.