May 5, 2026, 10:09 pm
শিরোনামঃ
এইমাত্রপাওয়াঃ

গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-তুরস্ক-ইউরোপ-আফ্রিকায় ব্যাপক বিক্ষোভ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। টানা প্রায় এক মাস ধরে চালানো নির্বিচার এই হামলায় নারী ও শিশুসহ এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন সাড়ে ৯ হাজার ফিলিস্তিনি।

গাজায় ইসরায়েলি এই হামলার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ বহু দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। বাদ যায়নি আফ্রিকার সেনেগালসহ তুরস্ক, জার্মানি ও ইতালিও। এসব বিক্ষোভ থেকে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার বিরোধিতা এবং অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির দাবি জানানো হয়।

রোববার (৫ নভেম্বর) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও আনাদোলু এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরা।

বিবিসি বলছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে এবং ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভকারীরা শনিবার হোয়াইট হাউসের কাছে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ করেছে। এসময় কেউ কেউ ইসরায়েলের প্রতি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমর্থনের সমালোচনাও করেন।

এছাড়া বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা ও প্ল্যাকার্ডও বহন করেন। এসব প্ল্যাকার্ডে ‘প্যালেস্টানিয়ান লাইভস ম্যাটার’ এবং ‘এখনই গাজা অবরোধ অবসান ঘটান’-এর মতো স্লোগান লেখা ছিল।

এমনকি ‘বাইডেন, বাইডেন, আপনি লুকাতে পারবেন না; আমরা আপনাকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করছি,’ বলে স্লোগানও দেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শনিবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী যুক্তরাজ্যের কয়েক ডজন নগর ও শহরে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এর মধ্যে কেবল লন্ডনেই ফিলিস্তিনের পক্ষে সমাবেশে ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন বলে মেট্রোপলিটন পুলিশ অনুমান করছে।

এছাড়া এডিনবার্গ এবং গ্লাসগো রেল স্টেশনে ও লন্ডনের চ্যারিং ক্রসে বিক্ষোভকারীরা যাত্রীদের ট্রেনে চড়তে বাধা দেওয়ার জন্য মেঝেতে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অবশ্য লন্ডনে জাতিগত বিদ্বেষ ও উস্কানিসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ব্যানারে স্লোগান লেখার ঘটনায় সন্ত্রাস আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি বিক্ষোভে বক্তৃতার সময় ইহুদি বিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শহরের মধ্যে ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট, কার্ডিফ, লিভারপুল এবং লিডসেও ফিলিস্তিনিপন্থি বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে গাজার ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে ফ্রান্সেও। আনাদোলু বলছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন।

প্যারিস, টুলুস এবং লিয়নসহ অন্যান্য ফরাসি শহরগুলোতেও ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেছেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা প্যারিসকে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আনাদোলু বলছে, শনিবার রিপাবলিক স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া প্যারিসের বিশাল পদযাত্রা নেশন স্কোয়ারে গিয়ে শেষ হয়। এদিনের বিক্ষোভে লা ফ্রান্স ইনসুমিস নামে একটি বামপন্থি পপুলিস্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের আক্রমণে নিহত শিশুদের মৃত্যুর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমাবেশে লাল রঙে ঢাকা ছোট কফিন এবং খেলনা পুতুল বহন করেন। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের অনেকে তাদের লাল রঙ করা হাত ওপরে তুলে বিক্ষোভ দেখান।

ফরাসি এই বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানারে লেখা ছিল: ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’, ‘যুদ্ধবিরতি’ এবং ‘গাজায় গণহত্যা চলছে, সংঘাত নয়’। বিক্ষোভকারীরা এসময় নানা স্লোগানও দেয়। এর মধ্যে: ‘ইসরায়েল খুনি রাষ্ট্র, ম্যাক্রোঁ তার সহযোগী, ‘গাজা, প্যারিস আপনাদের সাথে আছে’ এবং ‘ফিলিস্তিন দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগানও রয়েছে।

আল জাজিরা বলছে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনের সমর্থনে শনিবার জার্মানিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী বার্লিনে পুলিশের কঠোর শর্ত মেনে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বিক্ষোভকারী বিক্ষোভের জন্য জড়ো হন। জার্মানি অবশ্য এর আগে ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল।

এদিনের বিক্ষোভের সময় ফিলিস্তিনি পতাকা এবং ‘গাজায় গণহত্যা বন্ধ করুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহনকারী বিক্ষোভকারীরা শহরের কেন্দ্রস্থলের প্রধান চত্বর আলেকজান্ডারপ্লাটজে জড়ো হন। এসময় একজন বক্তা ‘বর্ণবৈষম্যের সংস্কৃতির’ অবসান এবং গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

এছাড়া ইতালিতে প্রায় ৪ হাজার বিক্ষোভকারী গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে মিলানের রাস্তায় মিছিল করেছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে। ‘যুদ্ধ বন্ধ করুন, বর্ণবাদ নয়’ স্লোগানের অধীনে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে বহু মানুষ প্ল্যাকার্ড এবং ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। আল জাজিরার নিকোলাস হক ডাকার থেকে বলেছেন, ‘এই বিক্ষোভটি গত সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেসময় এটি নিষিদ্ধ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভে সেনেগালের অনেক লোক আছে, কিন্তু লেবাননের সেনেগালি সম্প্রদায়ও তাদের সমর্থন প্রদর্শনে বিপুল সংখ্যায় এদিনের বিক্ষোভে যোগ দেন।’

এছাড়া বিক্ষোভ হয়েছে তুরস্কেও। আল জাজিরা বলছে, গাজা নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের তুরস্ক সফরের একদিন আগে ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

ইস্তাম্বুলের সারাচানে পার্কে আয়োজিত বিক্ষোভে ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ব্লিংকেন, গণহত্যার সহযোগী, তুরস্ক থেকে চলে যাও’। এছাড়া কয়েকটি ব্যানারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ব্লিংকেনের একসাথে লাল ‘ক্রস বা এক্স’ চিহ্ন সম্বলিত ছবিও দেখা যায়।

অন্যদিকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের কাছে সমাবেশ করেন এবং স্লোগান দেন। এসময় তাদের পোস্টারে লেখা ছিল: ‘ইসরায়েল হাসপাতালে বোমা নিক্ষেপ করছে, এর জন্য অর্থ প্রদান করছে বাইডেন।’

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। গাজার প্রশাসন জানিয়েছে, ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই ৬ হাজার ৪০০ জন।

আনাদোলু বলছে, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজার বাসিন্দারা বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। ভূখণ্ডটির ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

একইসঙ্গে গত ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় সর্বাত্মক অবরোধও আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। এর ফলে গাজার অনেক হাসপাতাল পরিষেবার বাইরে চলে গেছে।

আজকের বাংলা তারিখ

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১


Our Like Page