অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ট্যাপেন্টাডল ব্যথানাশক একটি ওষুধ। দেশের কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এটিকে বাজারজাত করত। তবে ট্যাপেন্টাডল মাদক হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২০ সালে ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
এর পর থেকে দেশে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। তবে জামালপুরের মাদকসেবীদের কাছে ট্যাপেন্টাডলের চাহিদা বাড়ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, ‘ট্যাপেন্টাডল বাংলাদেশ উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ভারতে ট্যাপেন্টাডল বৈধ রয়েছে।
কালোবাজারে মধ্যে ভারত থেকে এসব সরবরাহ করছেন কিছু ওষুধ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কাছে থেকে বিভিন্নভাবে গোপনে মাদকসেবীরা ট্যাপেন্টাডল কিনে নিচ্ছে।
সম্প্রতি জামালপুর জেলা শহরের কলেজ রোড়ে শফি মিয়ার বাজারে আল-আমিন মেডিক্যাল হল নামে একটি ওষুধের দোকান থেকে ট্যাপেন্টাডল বিক্রির করার সময় দোকান মালিক আল-আমিনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে আল-আমিনের নামে মামলা করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে আল-আমিনকে অবৈধ ওষুধ বিক্রি করায় বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি জামালপুর শাখার সিদ্ধান্তে ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দোকান বন্ধ এবং দোকানের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে অবৈধ ওষুধ বিক্রির দায়ে এক মাস দোকান বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ১৫ দিনের পরেই দোকান খুলেছেন আল-আমিন।
জানা গেছে, ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা ও ঢাকা থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জামালপুরে ট্যাপেন্টাডল আসে। কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ওষুধের দোকানের কর্মচারীরা সংগ্রহ করে তাঁদের বাড়িতে রাখে দেন ট্যাপেন্টাডল। ২৫ মার্চ রাত ৮টার দিকে আল-আমিন এক নারীর কাছে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল বিক্রি করার সময় জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে।
পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগার পাঠানো হয়। এ ছাড়াও এপ্রিলে জামালপুর সদর উপজেলায় ডিবি পুলিশ আরো তিনজনকে ট্যাপেন্টাডলসহ আটক করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জামালপুর কার্যালয়ের উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ইয়াবা ও হেরোইনের বিকল্প হিসেবে মাদক সেবনকারীরা ট্যাপেন্টাডল গ্রহণ করে। অভিযান চলছে। এটি ব্যথানাশক ওষুধ। দেশে ট্যাপেন্টাডল অবৈধ ওষুধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।’ জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফজলুল হক বলেন, কেউ যদি অবৈধ ওষুধ বিক্রি করে ড্রাগ সুপারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে বলব।