28 Feb 2025, 04:34 am

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোয় ইউক্রেনের তীব্র নিন্দা করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি, রাশিয়ার ভেতরে এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়াকে পাগলামি বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) টাইম ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটা পাগলামি। রাশিয়ার কয়েক শ মাইল ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অনুমতি নিয়ে আমার তীব্র আপত্তি রয়েছে। আমরা ওটা কেন করছি? আমরা শুধু এই যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়াচ্ছি ও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছি। এটা করতে দেওয়া উচিত হবে না।

গত মাসে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভেতরে হামলার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। তার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বারবার এ অনুমোদন চেয়েছিলেন। কিন্তু শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র অনুমতি দেয়নি।

গত মাসে অনুমোদন দেওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে হোয়াইট হাউজ বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ১৫ হাজার সেনাকে যুদ্ধ করতে ইউক্রেন পাঠিয়েছে রাশিয়া। এ কারণে নিজের মত পরিবর্তন করছেন বাইডেন। মূলত যুদ্ধে ইউক্রেনের মনোবল বাড়াতে বাইডেনের শেষ চেষ্টা ছিল এটা।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসান চান তিনি। টাইম ম্যাগাজিনকে তিনি বলেছেন, সাহায্য করার জন্য আমার কাছে ‘দারুণ একটি পরিকল্পনা আছে। কিন্তু যদি এখন সেটি প্রকাশ করে দেওয়া হয়, তবে সেটা একপ্রকার অর্থহীন পরিকল্পনায় পরিণত হবে।

ইউক্রেনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই। আর কোনো চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য পরিত্যাগই যে একমাত্র উপায়, তা নয়। আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া উভয় পক্ষের জন্যই ভালো হবে।

এদিকে, ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি কিয়েভে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাদের ভয়, চুক্তিতে বেশির ভাগ সুবিধা হয়তো মস্কোর ভাগে যাবে। সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রে রাশিয়ায় হামলায় ইউক্রেনকে নিন্দা জানালেন ট্রাম্প

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দিল্লির বেশ কয়েকটি স্কুলে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) আবারও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ এনিয়ে চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে দুইবার এমন ঘটনা ঘটলো। তবে পুলিশ স্কুলগুলোতে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু পায়নি বলে দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছে। খবর এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমেইলে অন্তত ছয়টি স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব স্কুলের মধ্যে রয়েছে, দিল্লি পাবলিক স্কুল, সালওয়ান স্কুল, মর্ডান স্কুল, ক্যামব্রিজ স্কুল।

হুমকি পাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠিয়েছে। সেইসঙ্গে স্কুলের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের জানানো হয়েছে, তারা যেন শিক্ষার্থীদের আজ স্কুলে না পাঠায়।

হুমকি দেওয়া ওই মেইলে লেখা হয়েছে, স্কুল প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক আছে। হুমকিদাতা মেইলে আরও লিখেছেন, এর পেছনে একটি সিক্রেট ডার্ক ওয়েব গ্রুপ আছে। যারা বোমা বিস্ফোরণে জড়িত।

ইমেইলে আরও লেখা হয়েছে, আমি নিশ্চিত যে আপনার শিক্ষার্থীদের ব্যাগ বারবার চেক করেন না। স্কুল ভবন ধ্বংস করতে এবং মানুষের ক্ষতি করার জন্য বোমাগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর উভয় দিনেই আপনাদের স্কুলে বোমা বিস্ফোরণ হতে পারে।

দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, হুমকি পাওয়ার পর স্কুলগুলোতে পুলিশ, ফায়ার ডিপার্টমেন্ট, বোমা নিষ্ক্রিয় দল এবং ডগ স্কোয়াড পৌঁছেছে এবং তল্লাশি চালাচ্ছে। দিল্লি পুলিশ আইপি অ্যাড্রেস এবং মেইলের প্রেরককে খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দিল্লির আম আদমি পার্টির প্রধান অরভিন্দ কেজরিওয়াল বোমা হামলার হুমকিকে গুরুতর এবং দুশ্চিন্তার বলে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর দিল্লির অন্তত ৪০টি স্কুলে ইমেইলে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। সেইসময়ও দেশটির পুলিশ স্কুলগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন কিছু পায়নি।

দিল্লির স্কুলগুলোতে আবারও বোমা হামলার হুমকি 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সিরীয় সরকারের চলমান গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য জি-৭ এর নেতারা শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠক করে। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অধীনে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইসলামপন্থী হায়াত তাহরীর আল-শাম (এইচটিএস) গ্রুপ এবং তাদের সহযোগীদের পরিচালিত একের পর এক আক্রমণের পর আসাদ সিরিয়া থেকে পালিয়ে যান। এর মাধ্যমে সিরিয়ায় আসাদ যুগের অবসান ঘটে।

দেশজুড়ে এবং বিশ্বজুড়ে সিরিয়ানরা টানা ৫৩ বছরের আসাদ যুগ সহ্য করার পরে উৎসব-উদযাপনে ফেটে পড়ে।

প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে ৫ লক্ষেরও বেশি লোকের প্রাণহানি হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে লক্ষ লক্ষ লোক। সন্দেহভাজন ভিন্নমতাবলম্বীদের কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছিল বছরের পর বছর। এদের অনেকেই কারাগারেই মারা গেছেন।

জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২৭ নভেম্বর বিদ্রোহীরা তাদের ঝটিকা আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ১১ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

নতুন সরকারের মুখপাত্র এএফপি’কে বলেছেন, তিন মাসের ক্রান্তিকালে দেশটির সংবিধান ও সংসদ স্থগিত করা হবে এবং পরে সংশোধনী আনা হবে।

মুখপাত্র ওবাইদা আরনাউত বলেছেন, ‘সংবিধান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় এবং মানবাধিকার কমিটি গঠন করা হবে।’

 জি-৭ বৈঠকে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সিরীয় সরকার

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একদিনেই ১৫শ’ জনের সাজা মওকুফ করেছেন। একদিনে এতোজনের সাজা মওকুফ করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এটাই প্রথম।

গতকাল ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে বলে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যাদের ক্ষমা করা হয়েছে তাদের মধ্যে একটি বড় অংশকে কাভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া ৩৯ জন মারিজুয়ানা মাদক গ্রহণের মতো অহিংস অপরাধের সাজা ভোগ করেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ছেলে হান্টারকে ক্ষমা করার দুই সপ্তাহ পরে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত জুনে হান্টার বন্দুক রাখা এবং আয়ককর ফাঁকি দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

সেই সময় বাইডেনের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতারা। কারণ, বাইডেন বরাবরই বলেছিলেন তিনি তার ছেলেকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে তিনি হান্টারকে ক্ষমা করেন। যাকে তিনি তার ‘মন পরিবর্তন’ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে বাইডেনের এই ঘোষণায় পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ারদের পুনর্মিলন ঘটানো, সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহাদ্য বাড়ানো এবং বিচ্ছিন্নদের পরিবারে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতির প্রতিনিধিত্ব করে।

ইতিহাসে প্রথম একদিনে দেড় হাজার মার্কিনির সাজা মওকুফ করলেন বাইডেন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি বলেছে, বিদেশি-মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে সিরিয়ার পতন হওয়ার পর সৃষ্ট অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংসের নেশায় মেতে উঠেছে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল।

এই বাহিনী এক বিবৃতিতে সিরিয়ার অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী বাহিনীর ভয়াবহ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী সিরিয়ার আবাসিক ও সামরিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করছে এবং সিরিয়ার ভূমি জবরদখল করেছে।

এ ধরনের নগ্ন আগ্রাসন ও হামলার ব্যাপারে ‘বিস্ময়কর নীরবতা’ দেখানোর জন্য বিবৃতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করা হয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তাকে ইরান নিজের মৌলিক নীতি বলে মনে করে। সিরিয়ার ভবিষ্যত নির্ধারণ করার একমাত্র অধিকার দেশটির জনগণের রয়েছে এবং এই ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ অধিকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজকে সম্মান জানাতে হবে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইসলামি প্রতিরোধ ফ্রন্ট নিষ্ক্রিয় থাকবে না বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা এবং এসব দেশকে খণ্ডবিখণ্ড করার যেকোনো প্রচেষ্টা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রুখে দেবে।

তাহরির আশ-শামের নেতৃত্বাধীন বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের সাফল্য অর্জনের পর গত রোববার সকাল নাগাদ রাজধানী দামেস্ক দখল করে নেয়। এর মাধ্যমে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে।

বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ইহুদিবাদী ইসরাইল, তুরস্ক ও কিছু পশ্চিমা দেশের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তাহরির আশ-শাম বিদ্যুৎ গতিতে সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বুধবার এক ভাষণে বলেছেন, সিরিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রতিবেশী একটি দেশের [তুরস্কের] সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু এর পেছনে মূল ষড়যন্ত্র ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল।

সিরিয়ার অবকাঠামো ধ্বংসের নেশায় মেতে উঠেছে আমেরিকা-ইসরাইল ; আইআরজিসি’র বিবৃতি