27 Feb 2025, 04:49 am

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ‘আগে যেটা চেয়েছি আজ পেলাম তার চেয়ে বেশি কিছু। আমার ছেলের বাবা নেই, ছেলেকে টাকা দিয়ে চাকরিতে ঢুকাবো সে সামর্থ্যও নেই। অনেকে বলে টাকা ছাড়া চাকরি হবে না। আমার ছেলে তো টাকা ছাড়াই পুলিশে নিয়োগ পেল।’

কথাগুলো বলছিলেন সদ্য ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পাওয়া সাব্বির হোসাইন রনির মা রুনা বেগম। তিনি নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

বুধবার (২২ মার্চ) সকালে নড়াইল জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে সদ্য চূড়ান্ত নিয়োগপ্রাপ্ত জেলার ২৭ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলকে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় নিয়োগপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ পরীক্ষায় সাড়ে ৩ হাজার প্রার্থীর মধ্যে প্রাথিমক বাছাইয়ে জেলার ৯৩৯ জন তরুণ-তরুণী গত ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে শারীরিক সক্ষমতা, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৫৭ জন তরুণ-তরূণী ২৩ ফেব্রুয়ারি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ওই দিনই মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণ (পুরুষ) কোটায় ১৫ জন, পোষ্য কোটায় (পুরুষ) পাঁচজন, এতিম কোটায় (পুরুষ) একজন, আনসার কোটায় (পুরুষ) একজন, সাধারণ কোটা (নারী) দুইজন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় একজন নারী ও দুইজন পুরুষ নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

মেডিকেল ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে মোট ২৭ জন নারী-পুরুষকে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নড়াইল জেলা থেকে পুলিশ ট্রেনিংয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

সংবর্ধনা ও সংবাদ সম্মেলন নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তাদের অভিভাবকরা অনুভূতি জানানোর সময় পুলিশ লাইন্সে ড্রিলশেডে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সদ্য নিয়োগ পাওয়া এতিম মো. নাঈম শেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি এতিম। তিন বছর বয়সের সময় বাবার মানসিক সমস্যার কারণে মা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। ছোট বোনটা হামাগুড়ি দিয়ে চলে। আমিও ছোট তখন বাবা মারা যান। তখন থেকে দাদি, ফুফু, চাচাদের কাছে বড় হইছি। যতটুকু পারছি অর্থকষ্টের মধ্যে দিয়ে পড়াশোনা চালানোর চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, ধারদেনা করে সব চাকরিতে আবেদন করছি, কিন্তু কোনোটায় রিটেন (লিখিত পরীক্ষায়) টিকছি কিন্তু ভাইভাতে বাদ গেছি। চাকরির বয়স এবারের নিয়োগে শেষ, চাকরি হবে না জানি তারপরও টাকা ধার করে আবেদন করছিলাম। জানাশোনা বন্ধুবান্ধব সবার ফোনে পুলিশ পরীক্ষার মেসেজ আসলো, আমার টায় আসেনি। আমার কাকা বললো বসে থেকে কি করবা কোম্পানিতে একটা চাকরি ঠিক করছি ঢাকায় চলে আয়। আমিও ব্যাগ গোছালাম হঠাৎ ফোনে মেসেজ আসলো পরীক্ষার জন্য।
কাকারে বললাম শেষ চেষ্টাটা করি, এবারের পরীক্ষাটা দেই।

পরীক্ষা দিতে আসলাম পুলিশ লাইন্সে। প্রথম দিনের পরীক্ষা, দ্বিতীয় দিনের মাঠের পরীক্ষায় টিকলাম। তৃতীয় দিনে ১৬শত মিটার দৌড় শেষে বসেছিলাম। মাঠের অনেক সিনিয়র পুলিশর ভাইয়েরা আমার সম্পর্কে শুনলেন। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাদিরা খাতুন স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে কিছু টাকা দিয়ে বললেন- বাবা রিটেনের জন্য একটা বই কিনে মন দিয়ে পড়ো, প্রস্তুতি ভালো করে নাও, মন খারাপ করো না। আমি স্যারের পরামর্শ মতো বই কিনে ওই বাকি দিনগুলোতে ভালো করে প্রস্তুতি নিলাম। আমি ভাবতে পারনি আমার চাকরি হবে। দাদি, চাচা, ফুফুদের কষ্ট স্বার্থক হয়েছে। বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। আমার পোশাকের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে নিয়োগের পর এসপি স্যার ২ সেট পোশাক বানিয়ে দিয়েছেন। পুলিশে টাকা ছাড়া চাকরি হয়, আমার মতো এতিম ছেলে তার প্রমাণ। বাবা-মা নেই কিন্তু আল্লাহ আমাকে বড় একটা পুলিশ পরিবার দিয়েছেন।

শামসুন্নাহার বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। আমাদের বংশে কোনো সরকারি চাকরিজীবী নেই। বাবার আর্থিক অনটনের মধ্যে কষ্ট করে পড়াশোনা করে পুলিশের চাকরি পেয়েছি, এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। রিটেন পাস করার পর এলাকার অনেকে বলছিলো- টাকা ছাড়া চাকরি হবে না। নিজেরা খেতে পারি না টাকা দেবো কোথা থেকে? পুলিশ সুপার স্যারের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্যই মেধা ও যোগ্যতার বলে চাকরি পেয়েছি।

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও জেলা পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন বলেন, ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে, তিনি চেয়েছেন স্মার্ট বাংলাদেশে স্মার্ট পুলিশিং ব্যবস্থা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পুলিশ প্রধানের (আইজিপি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমরা প্রতিনিধি হয়ে শুধু দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। চাকরি নয় সেবা এই প্রতিপাদ্য নড়াইল জেলায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। নিয়োগ পদ্ধতির স্বচ্ছতায় চাকরি পাবে নিজ যোগ্যতায়। ইনপুট ভালো না হলে কখনো আউটপুট ভালো আশা করা যায় না। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে পুলিশ বাহিনীকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের জনগণকে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেবেন।

তিনি আরও বলেন, সবাই আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কিন্তু ধন্যবাদ আমার প্রাপ্য নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সিস্টেমটাই এমন করা হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে নড়াইলে যোগ্যদের বাছাই করে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছি।

 

নড়াইলে টাকা ছাড়াই ছেলে পেলেন পুলিশে চাকরি ; খুশিতে কাঁদলেন মা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : কুড়িগ্রামের উলিপুরের বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার শিশু, কিশোর ও বিভিন্ন বয়সের মানুষজন ‘সাতভিটা গ্রন্থনীড়ে পড়াশুনা করে আলোকিত হচ্ছে। প্রত্যন্ত সাতভিটা গ্রামে পাঠাগার গড়ে তুলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন জয়নাল আবেদিন নামের এক দিনমজুর যুবক। দিনে করেন দিনমজুরী, কাজ শেষে বিকেলে খুলে বসেন পাঠাগার। তার এই কর্মকান্ডে স্থানীয়রা এক সময় নানা কথা বললেও এখন তাদেরই ছেলেমেয়েরাই হয়েছেন পাঠাগারের পাঠক।

দিনমজুর জয়নাল আবেদীন ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছিল। পড়াশুনার প্রতি প্রচুর ঝোক ছিল তার। গরীব বলে ছোটবেলা থেকে ঢাকা সহ সারা দেশে কাজের সন্ধানে চলে যেতো। এক সময় গাজীপুরে ইটভাটায় কাজ শুরু করেন। আর এখানেই কাজের ফাঁকে তার বই পড়ার নেশা পেয়ে যায়। রাত ২টা থেকে সকাল পর্যন্ত তাকে কাজ করতে হয়।

বিকেলে শ্রমিকদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে চা খেতেন টিভি দেখতেন। এ সময় ফুটপাতে যখনি বই দেখতেন কিনে এনে অবসরে পড়াশুনা করতেন। পরে খোঁজখবর নিয়ে ভাল মানের বইয়ের জন্য গাজীপুরে অবস্থিত কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন, টঙ্গী কলেজ গেটসহ বিভিন্ন জায়গায় বই সংগ্রহ করতে থাকেন ।এসব বই পড়ে তার প্রচন্ড আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এরপর বই কেনা ও পড়া তার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। পরে বই জমতে জমতে গ্রামে গিয়ে পাঠাগার তৈরীর চিন্তা তার মাথায় আসে। এভাবেই একজন দিনমজুর শ্রমিক হয়ে ওঠেন পাঠাগার তৈরীর কারিগর।

তাকে প্রথমে গ্রামের লোকজন ভুল বুঝলেও এখন তারা জয়নালকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের ‘সাতভিটা গ্রন্থণীড়’ পাঠাগার আনুষ্ঠাানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ২০২২ সালে জয়নাল আবেদীনের পাঠাগারটি এলজিএসপির অর্থায়নে আধাপাকা করে দেয়া হয়। এখন তার পাঠাগারে সংগ্রহে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বই। এখন গ্রামের কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই পাঠাগারে ভীড় জমাচ্ছে। প্রতিদিন স্কুলের বইয়ের বাইরে পাঠাগারে এসে তথ্যভিত্তিক, শিশু কিশোর ও গল্পের বই পড়া, দৈনিক পত্রিকার সংবাদ পড়তে পেরে খুশি পাঠকরা। তবে পাঠাগারে কোন নলকুপ, লেট্রিন ও ওয়াসরুম না থাকায় পাঠকদের একটু সমস্যা হচ্ছে। এজন্য সরকারি, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে তারা।

৭ম শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলাম বলেন, বাড়ীর পাশে পাঠাগার আছে বলেই নিয়মিত বই পড়তে পাচ্ছি। পাঠাগারটি না থাকলে তা সম্ভব হতো না। বকশীগঞ্জ রাজিবিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান মিলন বলেন এক সময় আমি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীতে গিয়ে বই পড়তাম। এই পাঠাগারে এখন আমরা হাতের কাছে অনায়াসে বই পাচ্ছি। আমি জীবনী মূলক বই পড়তে ভালোবাসি যেমন সূর্য সেন, আলবার্ট আইনস্টাইনসহ বিভিন্ন মনীষীদের জীবনী পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিদিন নিয়মিত পাঠাগারে আসি। এভাবেই অনেক লোকের নিন্দা ও প্রতিকূলতা পেড়িয়ে আজ জয়নালের ‘সাতভিটা গ্রন্থনীড়’ সফলতার আলো ছড়াচ্ছে।

সাতভিটা গণগ্রন্থাগার পরিচালক জয়নাল আবেদীন জানান, পাঠাগার তৈরীর পর ২০১৭ সাল থেকে গ্রামেই রয়েছেন জয়নাল আবেদীন। এখন সকালে ক্ষেত-খামারে কাজ করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসাও করছেন। বিকেল সাড়ে ৩টা হলেই নিজেই পাঠাগার খুলে বসেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০জন পাঠক আসে। তবে পাঠাগারে কিছু ঘাটতি আছে। যেমন বুক সেলফ, চেয়ার, টেবিল এবং ওয়াস রুমের। এগুলো সংগ্রহ করতে পারলে পাঠাগারে পাঠক বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি জানান।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন,  অর্থাভাবে জয়নাল আবেদীনের দিন চললেও শ্রমলব্ধ অর্থ দিয়ে বই কিনে পাঠাগার গড়ে তোলায় এই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যে সময় মানুষ বই বিমুখ সে সময় তার উদ্যোগকে সকলে সাধুবাদ জানাচ্ছে। বর্তমানে পাঠক বৃ দ্ধি পাওয়ায় স্থান সংকুলানসহ সমস্যা হচ্ছে, সে ব্যাপারে গুণি মানুষ এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা করছি।

 

 

কুড়িগ্রামের জয়নাল আবেদীন দিন মজুরীর টাকা দিয়ে গড়ে তুললেন ‘সাতভিটা গ্রন্থনীড়’

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সাতক্ষীরার প্রসিদ্ধ চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসী শেখ শফিউল্লাহ ওরফে গোল্ড মনি (৪৭)কে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। গত ২০ মার্চ এ ঘোষণা ;দেয় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ।

শেখ শফিউল্লাহ সাতক্ষীরা সদরের দক্ষিণ কাটিয়া গ্রামের শেখ মোশারফ হোসেনের ছেলে। তার বড় ভাই মাছুম বিল্লাহ শাহীন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বলে জানা গেছে।

কলারোয়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৬ মার্চ রাত সাড়ে দশটার দিকে কলারোয়া থানার সাতক্ষীরা-যশোর হাইওয়ে রাস্তার ওপর পুলিশ চেকপোস্টে ডিউটি করছিল। সেদিন ইলিশপুর গ্রামের কোটার মোড়ে সাতক্ষীরা-যশোর হাইওয়ে পাঁকা রাস্তার ওপর ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ডাকাত গোল্ড মনি। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে ছুটে যায়। ঘটনাস্থল ঘেরাও করলে ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে শেখ শফিউল্লাহ মনি ওরফে গোল্ড মনি পুলিশের দিকে গুলি করতে থাকেন। এরপর সে সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ দাবি করেছে। পরে এ ঘটনায় গোল্ড মনির বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় ওই দিনই ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাশকতাসহ ডজনখানেক মামলার আসামি শফিউল্লাহ মনি। এর আগে এক ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৩৩ লাখ টাকা ছিনতাই করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নলকুড়া গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম জানান, পেশায় তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী। বিভিন্ন গরুর হাট ও খামার থেকে গরু কিনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রয় করেন তিনি। ২০২০সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুর ২টার দিকে তলুইগাছার গরু ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকের নিকট থেকে ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে সাতক্ষীরা শহরের দিকে আসছিলেন।

তিনি বলেন, মাধবকাটি ছয়ঘোরিয়া মোড়ে পৌছলে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার যোগে শহরের দক্ষিণ কাটিয়ার মৃত শেখ মোশারফ হোসেনের ছেলে জেলার শীর্ষ চোরাকারি শেখ শফিউল্লাহ মনি, রমজান মাস্টারের ছেলে বাবন হোসেন ও পাটকেলঘাটার চৌগাছা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে টিপু সুলতান তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সে সময় শফিউল্লাহ মনি তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাবন ও টিপুর সহযোগিতায় ওই টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ২৭ ডিসেম্বর মনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় ৬৪ নং একটি মামলা দায়ের করেন।

থানা সূত্র জানায়, শেখ শফিউল্লাহ মনি ওরফে গোল্ড মনির বিষয়ে তথ্য বা ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে। যিনি ডাকাত মনিকে ধরিয়ে দিতে পারবেন তাকে পুরষ্কৃত করা হবে বলে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন। সেই ডাকাতের সন্ধান পেলে প্রয়োজনে কলারোয়া থানার ফোন নাম্বার ০১৩২০-১৪২১৪৪, ০১৩২০-১৪২২০৫, ০১৩২০-১৪৩০৯৮ তে কল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য: শেখ শফিউল্লাহ ওরফে গোল্ড মনি সাতক্ষীরার শিশু চোরাকারবারি। সে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্যসহ কয়েকজন মিলে জেলার চোরাকারবারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাই নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

 

সাতক্ষীরার চোরাকারবারি গোল্ড মনিকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২২ মার্চ) দিনগত রাতে সেহরি খাবেন মাদারীপুরের ৪০ গ্রামের মানুষ। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে তাদের রোজা শুরু হবে। তারা হজরত সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবারের পির খাজা শাহ সুফি নূরে আক্তার হোসাইনের ছেলে শাহ নূরে আতামোর্শেদ নওশাদ শাহ।

তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু। তাই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে সুরেশ্বর দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারী মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় এক কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান বৃহস্পতিবার রোজা রাখবেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের তাল্লুক গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুস সামাদ সরদার বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের লোকজন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বৃহস্পতিবার রোজা রাখবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা, জাজিরা, মহিষেরচর, জাফরাবাদ, চরকালিকাপুর, তাল্লুক, বাহেরচর কাতলা, চর গোবিন্দপুর, আউলিয়াপুর, ছিলারচর, মস্তফাপুর, কালকিনির সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, আলীনগর, বাঁশগাড়ী, খাসেরহাট, ক্রোকিরচর, সিডিখান, কয়ারিয়া, রমজানপুর, বাটামারা, রাজারচর, শিবচরের পাচ্চর, স্বর্ণকারপট্টিসহ জেলার পাঁচ উপজেলার অন্তত ৪০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান বৃহস্পতিবার থেকে রমজানের রোজা শুরু করবেন।

শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন। একইসঙ্গে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাদারীপুরের ৪০ গ্রামের মানুষের রোজা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : প্রতিকেজি সিদ্ধ চাল ৩৫ টাকা এবং চিনি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য বিক্রির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করেছে সংগঠনটি। বুধবার (২২ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে ভোগ্যপণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এসময় চেম্বারের সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালক মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, অঞ্জন শেখর দাশ, মো. রকিবুর রহমান টুটুল, মো. ইফতেখার ফয়সাল, তানভীর মোস্তফা চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাসিরুল আলম ফাহিম উপস্থিত ছিলেন।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বে খাদ্য সরবরাহে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী প্রচেষ্টায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও এলসি খোলার অনুমতি দিয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রয়েছে। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে চিটাগাং চেম্বারের ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিবারের মতো এবারও ভর্তুকিমূল্যে ভোগ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। চলমান মূল্যস্ফীতির মধ্যেও পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ জনগণ যাতে সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারে সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

প্রত্যেক ক্রেতা প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য কিনতে পারবেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

 

রোযা উপলক্ষে ৩৫ টাকায় চাল ও ৬০ টাকায় চিনি বিক্রি করছে চট্টগ্রাম চেম্বার

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পরিত্যক্ত মর্টার-শেল বিস্ফোরণে বাবু মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তির ডান পা বিচ্ছিন্ন ও বাম পা ঝলসে গেছে। মঙ্গলবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দেওয়ানের খামার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা পরিত্যক্ত মর্টার-শেলটি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার।

আহত বাবু মিয়া উপজেলার দেওয়ানের খামার এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি গাড়ির মিস্ত্রি বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, আহত বাবু মিয়ার মামা আব্দুল গফুর মাটি কাটার কাজ করেন। একই এলাকার আজিজ কমান্ডার এর বাড়ির পাশে পুকুরের মাটি কাটার সময় একটি ভারি লোহার বস্তু দেখতে পায় আব্দুল গফুর। গুপ্তধন ভেবে গোপনে এনে বাবুকে দেন তিনি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবু তার বসতঘরে লোহা কাটার মেশিন দিয়ে মর্টার-শেলটি কেটে গুপ্তধন বের করতে গেলে বিস্ফোরিত হয়। মর্টার-শেলটি বিস্ফোরিত হয়ে পার্শ্ববর্তী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পড়ে। এতে বাবুর ডান পা হাঁটু পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাঁ পা ঝলসে যায়। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত বাবু মিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে বাবুর মামা গফুর পলাতক রয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী কচাকাটা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মর্টার-শেলটি পরিত্যক্ত ছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রামে গুপ্তধনের লোভে মর্টার-শেল কাটার সময় বিস্ফোরণে উড়ে গেল পা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : নাটোরের লালপুর উপজেলার ৫ নম্বর বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের পরাজিত প্রার্থীকে ৬ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক। রায়ে তিনি বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ফলাফল (গেজেট) বাতিল ঘোষণা করেন।

নাটোরের নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামসুল আল আমীন মঙ্গলবার (২১ মার্চ) বিকেলে লিখিত আকারে পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন।

নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৫ নম্বর বিলমাড়িয়া ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিক আলীকে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে সিদ্দিকের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিজানুর রহমান ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল চেয়ে নাটোরের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল ৮ ও ৯ নম্বর ভোটকেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা করে। এতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত সিদ্দিকের ভোটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৪০। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিজানুর ৪ হাজার ৮৪৬টি ভোট পান।

তবে ওই দিনই (২৮ আগস্ট ২০২২) সিদ্দিক সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল সিদ্দিকের আবেদন খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে মিজানুরের মামলাও খারিজ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিজানুর ওই আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে (যুগ্ম জেলা জজ-১) আপিল করেন। পরে শুনানি শেষে ১৩ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন রায় প্রকাশিত হয়নি। পরে গতকাল বিকেলে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল মামলার লিখিত রায় সরবরাহ করেন।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিলমাড়িয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট গণনায় ত্রুটি ছিল। প্রার্থী মিজানুর রহমানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ও ৯ নম্বর কেন্দ্রের ভোট গণনায় ত্রুটি ধরা পড়েছে। পরে ভোট পুনর্গণনা করে দেখা যায়, পরাজিত প্রার্থী নির্বাচিত প্রার্থীর চেয়ে ছয় ভোট বেশি পেয়েছেন।

তবে আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিদ্দিক আলী। তিনি প্রতিকারের জন্য উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে মিজানুর রহমান বলেন, সত্যের জয় হয়েছে। আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। এর আগে তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে হারানো হয়েছিল।

নাটোরে নির্বাচনের ৩ মাস পর জয় ছিনিয়ে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ‘হিজড়াদের বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না মানুষ। মানুষের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে, মাস শেষে ভাড়া পাওয়া নিয়ে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা থাকা নিয়ে। মানুষ আমাদের স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় না। আমরা হিজড়া, আমাদের তারা (মানুষের) ভাবে ভিন্ন এক মানুষ। আমাদের বিষয়ে মানুষের মধ্যে নীতিবাচক ধারণা রয়েছে। বাড়িওয়ালা হিজড়াদের বাড়ি ভাড়া দিতে নাক সিটকায়। এই নাক সিটকানো থেকে আজ আমাদের মুক্তি দিলেন মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

বুধবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদের হল রুমে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে চতুর্থ পর্যায়ে জমি ও ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পাঁচজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ নিজ নিজ অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাশিয়াডাঙ্গায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমিসহ ঘর পেয়েছেন।

তারা হলেন, পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হাড়ুপুর এলাকার রুবেল হোসেন ওরফে রবিনা, দুয়ারী বাঁধের ধারে বসবাসকারী সাগর আলী ওরফে সাগরিকা ও কৃষ্টগঞ্জ সাঁওতালপাড়ার ধীরেন সরকার ওরফে নদী খাতুন, নওহাটা পৌরসভার পূর্বপুঠিয়াপাড়ার আসাদ আলী ওরফে সাথী খাতুন ও বড়গাছী ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের সম্রাট ওরফে সুমী খাতুন।

উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হাড়ুপুর এলাকার রুবেল হোসেন ওরফে রবিনা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা খুব খুশি। আমাদের স্থানীয় একটা জায়গা হলো। এখন আর কেউ বলতে পারবে না, চলে যেতে (ভাড়া বাড়ি থেকে)। এখন বুক ফুলিয়ে চলতে পারব। মাথা উঁচু করে চলতে পারব।

তিনি বলেন, আমি ভাড়া বাড়িতে থাকি। যখন-তখন বাড়ির মালিক বলে ছেড়ে দিতে। তারা মনে করে আমরা ভাড়া দেব না। তাই বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না আমাদের। আমাদের পরিবারটাকে (হিজরা সম্প্রদায়) মেনে নিতে চায় না। আমাদের বাড়ি ভাড়া দেয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাড়ি দিয়েছে। থাকার জায়গা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ।

বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার ওরফে বিজলী বলেন, বাবা-মা জন্ম দিয়েছে, আমাদের কর্ম শেখাতে পারেনি। এক টুকরো জায়গা দিতে পারেনি। একটা বাড়ি দিতে পারেনি। শেখ হাসিনা বিশ্বমাতা, মানবতার মা। আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এক টুকরো জমি দিয়েছেন, ঘর দিয়েছেন। এটা সরকারের একটা মহতি উদ্যোগ।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লসমী চাকমা বলেন, পবা উপজেলায় ৫৩৫টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে ২৮৮টি ঘর প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন। এদের মধ্যে রাজশাহীর পবায় পাঁচজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সহায়-সম্বলহীন নিঃস্ব মানুষদের। তাদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের পাঁচজন রয়েছেন। তাদের বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্‌ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে দেশে প্রথম ভূমিহীনদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে পুনরায় জমি ও ঘরের মালিকানা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে দেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না বলে ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।

 

আজ আমাদের মুক্তি দিলেন প্রধানমন্ত্রী : ঘর পেয়ে রাজশাহীর হিজড়াদের প্রতিক্রিয়া

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অভিযোগ করে বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে পশ্চিমা জোট।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) মাশহাদে এক বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু করেছে। আমেরিকা পূর্বে ন্যাটো সম্প্রসারণের জন্য এই যুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করে।’

খামেনি বলেন, এখন ইউক্রেন যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ইউক্রেনের দরিদ্র জনগণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো সুবিধা নিচ্ছে। তাই তারা যুদ্ধ শেষ করার পথে হাঁটছে না।

সর্বোচ্চ এ নেতা তেহরানের অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধে তাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে ড্রোন দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

খামেনি গত জুলাই মাসে, তেহরান সফরের সময় ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ‘উদ্যোগ না নিলে’ ন্যাটো যুদ্ধ শুরু করতো।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য মস্কোয় থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার ইরানের এই নেতা এসব কথা বলেছেন। শি জিনপিং এক বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির প্রস্তাব করেছেন।

শি ও পুতিনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনার সময়ও, ন্যাটোপ্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে চীনকে সতর্ক করেন।

চীনের শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান ‘অগ্রহণযোগ্য’ বিষয়।

এ মাসের শুরুর দিকে চীন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি বহুল প্রত্যাশিত চুক্তির মধ্যস্থতা করে। যার ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ৭ বছর পর তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে সচেষ্ট হয়। এর মাধ্যমে বেইজিং নিজেকে এই অঞ্চলে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায় না  : ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মিয়ানমার জান্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আসছে। বুধবার (২২মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাকার্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাউন্সেলর ডেরেক শোলেট বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমার জান্তার জন্য অস্ত্র কিনতে রাজস্ব আয় করা আরও কঠিন করে তুলবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জান্তার ওপর চাপ বাড়াতে এবং তাদের জন্য রাজস্ব তৈরি করা কঠিন করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা যুদ্ধের রণকৌশলে জ্বালানি যোগাচ্ছে। মিয়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ নিষেধাজ্ঞার খবর আসার আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের কর্মকর্তা, কোম্পানি ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। শোলেট বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ৮০ জন ব্যক্তি ও ৩০ টিরও বেশি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সংঘাতের সমাধান দেখতে হলে রাশিয়াকে জান্তা সরকারকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘জান্তা যেন আর অস্ত্র আমদানি করতে সক্ষম না হয় আমরা সে অনুযায়ী একটি বড় পদক্ষেপ নেবো।’

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী তার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার সময় নোবেল জয়ী সু চি গ্রেফতার হন। সে সময় জান্তা সরকার ক্ষমতা দখল করলেও দেশটির সিংহভাগ জনগণ বিষয়টি মেনে নেয়নি। রাস্তায় বিক্ষোভ, সরকারি কাজকর্ম বয়কটসহ সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে দেশটির বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এখনও প্রায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও জান্তা বাহিনীর সদস্যদের লড়াইয়ের খবর পাওয়া যায়।

স্থানীয় মনিটরিং গ্রুপগুলো বলছে, মিয়ানমারে সেনা অভূত্থানের পর সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করারও অভিযোগ ওঠে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন দেশটির সেনাদের নির্যাতনে। শুধু তাই নয়, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে মিয়ানমারের অর্থনীতি। সূত্র: রয়টার্স

 

মিয়ানমার জান্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরও নিষেধাজ্ঞা আসছে