26 Feb 2025, 09:13 pm

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : স্বাধীনতার সময় আমির আলীর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। তার বাবা অসিম উদ্দিন ছিলেন দিনমুজুর। বাড়ি-ঘর ছিল না তাদের। আমির আলীর জীবন কেটেছে মানুষের বাড়িতে আশ্রিত থেকে। যুদ্ধের সময় বাবার সঙ্গে বিভিন্ন জনের বাড়িতে পালিয়ে বেড়িয়েছেন।

তারপর দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যে আমির আলী মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্বাধীন দেশেও নিজের একটা ঘর ছিল না তার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের কল্যাণে এখন নিজের ঘর হয়েছে আমির আলীর। নিজের একটা স্থায়ী আবাসস্থল পেয়ে তিনি মুক্তির আনন্দ লাভ করেছেন। খুশি হয়ে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, মনে হচ্ছে ৫২ বছর পর স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পেলাম।

আমির আলীর বয়স এখন প্রায় ৬৭ বছর। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার বসবাস। বড় ছেলে দিনমজুর ও ছোট ছেলে রিকশাচালক। বিয়ের পর থেকে পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন তিনি।

আমির আলী বলেন, দেশ স্বাধীন হলো, বিয়ে করলাম, সংসার হলো। বাড়ি-ঘর না থাকায় শ্বশুরবাড়িতেই থাকতাম। নিজে একটি রিকশা কিনে চালানো শুরু করলাম। তবে দিন এনে দিন খাওয়া সংসারে যে আয় হতো তা দিয়ে নিজের একটা ঘর আর করতে পারিনি। ২০০৪ সালে আমাকে রাস্তায় বেঁধে রিকশাটিও নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। পরে আর রিকশা কিনতে পারিনি। তাই দিনমুজুরের কাজ শুরু করি। সারাদিন কৃষি শ্রমিক হিসেবে যে আয় হতো তা দিয়ে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিন চলছিল। আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার পর স্ত্রী পৈত্রিক সূত্রে সামান্য কিছুর জমির মালিক হয়। কিন্তু স্ত্রীর ভাইয়েরা মিলে সেই জমির অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়।

আমির আলীর ছেলে ফুল মিয়া বলেন, গৃহহীন হওয়াটা আমাদের জন্য চরম কষ্টের। স্থানীয়রা আমাদের বিভিন্নভাবে অবহেলা করতো শুধু ঘর-বাড়ি না থাকার কারণে। এখন প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে ভিটে মাটির ব্যবস্থা হওয়ায় পরবর্তী প্রজন্ম ভূমিহীন অপবাদ মুক্ত হলো।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, আমির আলীরদের কষ্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুভব করেছেন বলেই তাদের জন্য গাজীপুরের শ্রীপুরের নয়াপাড়া গ্রামে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। তারা এখন গৃহহীনের অপবাদমুক্ত। নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৪২টি পরিবারের পাশাপাশি গাজীপুরে এ পর্যন্ত ১৮১৭টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে জমিসহ ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ২২ মার্চ গাজীপুর জেলাকে গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করবেন ।

 

 

সরকারী ঘর পেয়ে ৫২ বছর পর স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পেলেন গাজীপুরের আমির আলী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ঝালকাঠিতে প্রত্যেকের ১২০ টাকা খচরে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ২৬ নারী ও পুরুষ। বাছাই পরীক্ষার তিন ধাপ পেরিয়ে নিজ নিজ যোগ্যতায় চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য (ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল) পদে স্থান পেয়েছেন তারা।

এই প্রক্রিয়ায় তারা আবেদনের সময় ব্যাংক ড্রাফটে প্রত্যেকের ১২০ টাকা করে জমা দিয়েছেন। কোনো রকম তদবীর বা অর্থ লেনদেন ছাড়াই বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অভিভাবকরাও স্বপ্নের মতো দেখেছেন বিষয়টি।

রোববার (২০ মার্চ) রাত ১১টার দিকে ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সে টিআরসি পদে পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ব্রিফিং হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল জানান, পুলিশকে আধুনিক ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বর্তমান আইজিপির চেষ্টায় পুলিশের সব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝালকাঠি পুলিশের মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ২৬ যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিয়োগ পাওয়া ২৬ নারী ও পুরুষকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টি খাওয়ানো হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, ২ মার্চ ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলা থেকে আসা আট শতাধিক নারী ও পুরুষ অংশ নেন পুলিশের ‘ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল’ পদের জন্য বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। প্রথম ধাপে বাছাইয়ে টিকে ২১১ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখান থেকে ৬১ জন প্রার্থী উর্ত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। সব পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে কোঠা নির্ধারণ করে যোগ্যতা অনুযায়ী চার নারী এবং ২২ জন পুরুষ প্রার্থীকে চাকরির জন্য চূড়ান্ত পর্বে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।

ঝালকাঠিতে ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন ২৬ জন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরে ইমাদ পরিবহন দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহতের পর মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতিসীমা লংঘন করায় মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরদিন সোমবার একই অপরাধে মামলা হয় ২১টি।
এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। গতিসীমা লংঘন করার অপরাধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮৪টি মামলা করে হাইওয়ে পুলিশ। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৩১৫টি।

শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি আবু নাইম মোঃ মোফাজ্জেল হক বলেন, ‘গতিসীমা লংঘন করায় মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরদিন সোমবার একই অপরাধে মামলা হয়  ২১টি। এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।’

এদিকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব কুমার হাজরা বলেন, ‘তদন্তের জন্য নির্ধারিত ২য় দিনের কাজ এখনো চলমান আছে। আমরা কাজ করছি। তবে বেধে দেওয়া সময় সীমা অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) রাত ১২টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’ তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত যানবাহনের গতিসীমা লংঘন করার ঘটনা ঘটলে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে পুলিশের ধারণা।

উল্লেখ্য, রবিবার ভোররাতে খুলনা থেকে যাত্রী বোঝাই করে ইমাদ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-৩৩৪৮) ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।  বাসটি গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া থেকে ১৫ জন যাত্রী তুলে।  পদ্মাসেতুর আগে ঢাকা-খুলনা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর সিমানা এলাকায় আসলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। বাসটি এক্সপ্রেস হাইওয়ের নীচের আন্ডারপাসের গাইড ওয়ালের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায় । এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন নিহত হয়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাঁচ্চর রয়েল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচরে ১৯ জনের প্রাণহানি ; দ্রুত গতির কারণে ৩১ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সরকারি জমি দখলকারীদের সহায়তার অভিযোগে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম এবং সাবেক ইউএনও ও সাবেক এসিল্যান্ডসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিলেট দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (২০ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেছেন মুহিতুর রহমান তালুকদার নামের এক আইনজীবী।

মামলায় ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাতজন ভূমি দখলকারীকে আসামি করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার বর্তমান ইউএনও সাজেদুল ইসলাম, সাবেক ইউএনও মাহফুজুল আলম মাসুম, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত, সাবেক সার্ভেয়ার আব্দুল মোনায়েম খান, বর্তমান সার্ভেয়ার মুহিবুর রহমান ও সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা একে এম নাজমুল হুদা খান।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হবিবপুর মৌজার ১ নং খতিয়ানের ১২৫ নং দাগের ২২ শতক গোপাটের রাস্তা রকম ভূমি হবিবপুর (মাঝপাড়া) এলাকার বাসিন্দা মামলার আসামি আলকাব আলী, সিজিল মিয়া, রুহিন মিয়া, সুজাত মিয়া, আবু শায়েক ও জামাল মিয়া উক্ত ভূমি জবর দখল করেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই সরকারি জায়গা উচ্ছেদের জন্য ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) দখলকারীদের সাত দিনের মধ্যে উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দেন।

এক বছরেও ওই জায়গা দখল মুক্ত না হওয়ায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মুহিতুর রহমান তালুকদার ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে ওই সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে লিখিত আবেদন করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী মুহিতুর রহমান তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলে, তিনি জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরকে (আরডিসি) ব্যবস্থা নিতে বলেন। আরডিসি একই বছরের ২৪ অক্টোবর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলামকে অবৈধ দখলকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সার্ভেয়ার মুহিবুর রহমানের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বলেন। এ সময় সার্ভেয়ার মুহিবুর রহমান দুই লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। এতে প্রতিবাদ করলে ওই সার্ভেয়ার পুলিশের ভয়ভীতি দেখান।

এ আইনজীবী আরও বলেন, নিরুপায় হয়ে জনস্বার্থে সরকারি গোপাটের রাস্তা উদ্ধার ও দখলকারীদের সহায়তাকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে মামলা করি। মামলায় সরকারি আদেশ অমান্য করে ঘুস দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। মামলা হয়েছে সেটার বিষয়েও জানি না।

তবে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি আবুল আজাদ বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিলেট দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দিয়েছেন।

সুনামগঞ্জে সরকারী জমি দখলে সহায়তা সাবেক-বর্তমান ইউএনওসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ৫৮০ গ্রাম (আধা কেজি) সোনার বারসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতে পাচারের উদ্দেশ্য বারগুলো সীমান্ত এলাকার নতুনপাড়া গ্রামে নেওয়া হচ্ছিল।

সোমবার (২০ মার্চ) রাতে জীবননগর পৌর এলাকার ইসলামপুর থেকে সোনার বারসহ তাদের আটক করে পুলিশ।

আটকরা হলেন জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ানের নতুনপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে জিয়া উদ্দিন ও একই গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে কামাল।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইসলামপুর এলাকায় অবস্থান নেয় জীবননগর থানাপুলিশের একটি টিম। এসময় দুই পাচারকারী সোনা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সীমান্ত এলাকার নতুনপাড়া গ্রামে যাচ্ছিলেন। তাদের আটক করে শরীর তল্লাশি করে পুলিশ। এসময় জিয়া উদ্দিনের কোমরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় সোনার বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার সোনার বারের ওজন ৫৮০ গ্রাম। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, আটক দুজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। সোনার বারগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা রাখা হবে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আধা কেজি সোনার বারসহ দু’জন আটক

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৩৪ জেলে পরিবারকে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ মো. মহিব্বুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এসএম রাকিবুল আহসান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনা পারভীন সীমা। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় এসব জেলে পরিবারকে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য এই বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিকল্প কর্মসংস্থানে ৩৪ জেলে পরিবারকে গরুর বাছুর প্রদান

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাজবাড়ী সরকারি কলেজের এক হোস্টেলে ছাত্রলীগের নেতার গাঁজা সেবনের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী সরকারী কলেজের বিদ্যা সাগর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পংকজ দাস, বিদ্যাসাগর হোস্টেল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল পাল, অমিত বিশ্বাস , হৃদয় বিশ্বাস, অমিত ঘোষ ও দিব্য রায়কে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে হোস্টেলের বাইরে থাকতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে জানাযায়, রাজবাড়ী কলেজের ছাত্রদের গাঁজা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে সভাপতি পংকজ একা। সময় ৩২ সেকেন্ড। দ্বিতীয় ভিডিওটিতে সভাপতির সঙ্গে দুইজন সহযোগী রয়েছে। এ ভিডিওটির সময় ৩৭ সেকেন্ডের। ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখাযায়, একটি পাকা ভবনের বড় কক্ষ। পংকজ কলকে (গাঁজা সেবনের উপকরণ) দিয়ে আয়েশ করে গাঁজা খাচ্ছে। পাশে দুইজন তাকে সহযোগিতা করছে। গাঁজা সেবনের এক পর্যায়ে তিনি নিজের মাথায় থাপ্পর দিচ্ছেন। তিন জনের বাইরে আরেক জন সিগারেট খাচ্ছে। তাকে দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, পংকজের গাঁজা সেবনের বিষয়টি কলেজের অনেক শিক্ষার্থী জানে। তার আচরণ ও চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল। মাদক সেবনের সঙ্গে ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন। সে ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃ প্রতিম সংগঠনের নেতা। এ কারণে এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। সাধারণত হোস্টেলের কমন রুমে (টেলিভিশনের কক্ষ) গাঁজা সেবন করা হয়। কখনো বিভিন্ন ছাত্রের কক্ষে গিয়েও গাঁজা সেবন করা হয়।

তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী আবু হোসাইন। সদস্য দুই জন হলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এ কে এম আজাদুর রহমান।

তদন্ত কমিটি সদস্য প্রাণি বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে এ বিষয়ে পত্র পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে অভিযুক্ত ৬জনকে হলের বাইরে থাকতে বলা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রাজবাড়ী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা খাতুন বলেন, বিষয়টি তদন্তকরে দেখার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। হল থেকে ৬জনকে বাইরে থাকতে বলা হয়েছে। রবিবার বিকালে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

 

 

 

রাজবাড়ী কলেজ হোস্টেলে গাঁজা সেবনের দায়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৬ জনকে হল ত্যাগের নির্দেশ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দুবাইয়ের বিতর্কিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী পুলিশ হত্যা মামলার পলাতক আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভের প্রথম স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার কেয়া। কেয়া মেহেরপুর গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও মনোয়ারা খাতুন দম্পতির মেয়ে।

সম্প্রতি আরাভের দুবাইয়ে স্বর্ণের শোরুম উদ্বোধনের পর থেকে তার স্বজনসহ সহযোগিদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। তারই ধারাবাহীকতায় গাংনী পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আরাভের প্রথম স্ত্রী কেয়ার খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারে সেও  পুলিশ কর্মকর্তা খুনের মামলার আসামি।

গাংনী থানার এসআই জিল্লুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কেয়া নামের ওই মেয়ের সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলা হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আরাভের প্রথম স্ত্রী কেয়াও পুলিশ কর্মকর্তা খুনের মামলার আসামি। তবে তিনি আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে বাইরে আছেন। মামলার আসামি হবার পর আরাভ কেয়াকে ডিভোর্স দেয়।

সম্প্রতি কেয়া সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের শাহিন নামের একজনকে বিয়ে করে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন কেয়ার বাবা আবুল কালাম আজাদ।

আবুল কালাম আজাদ জানান, কেয়ার মা তার খালাতো বোন। নিজ বাড়ির পাশেই তার খালার বাড়ি।  ১৯৯৬ সালে মনোয়ারার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এরপর থেকেই তাদের সংসার জীবন ভালোই চলছিল। কিন্তু ২০০০ সালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি মামলায় জেল হয় তার। তখন কেয়ার বয়স মাত্র ৩ বছর। মাঝে মাঝে মেয়েকে নিয়ে তাকে জেলা খানায় দেখতে যেতেন তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। কিন্তু দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে তাদের সংসারে ফাটল ধরে। ২০১১ সালে জেল থেকে বের হয়ে আসেন আবুল কালাম। এসে শুনতে পান তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছে।

তারপর থেকে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও পারেননি তিনি।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন বিয়ে করেন মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের এক হোমিও চিকিৎসককে। পরে তারা ঢাকায় চলে যান। ২০১৩ সালে এসএসসি পাস করে কেয়া। তার মা তাকে বাবার অমতে ভর্তি করে দেন ঢাকার একটি ম্যাটস কলেজে। সেখানে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিপ্লোমা করতেন কেয়া। ঢাকায় ভর্তি হবার কিছুদিন পরই শুনতে পান তার মেয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছেন আপন (বর্তমান আরাভ খান) নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে।

পরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় তার সথে। ২০১৪ ও ১৫ সালে স্বামীকে নিয়ে দুইবার গাড়াডোব গ্রামে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তখন বিলাসবহুল জীবন যাপন করতো তারা।

এরপরই কিছুদিন যেতে না যেতেই খবর আসে কেয়া একটি পুলিশ হত্যা মামলার আসামি। পরে জেলেও যেতে হয় কেয়াকে। এ সময় আপন তালাক দেয় কেয়াকে। দীর্ঘ কয়েক বছর হাজত বাস করার পর ২০২২ সালে জামিনে মুক্তি পায় সে। পরে সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের শাহিন নামের এক যুবককে বিয়ে করে। তারপর সে স্বামীর সঙ্গে মালয়েশিয়ায় চলে যায়।

গাঁড়াডোব গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার হোসেন টোকন বলেন, কেয়া ও তার স্বামী অনেক আগে দুবার গ্রামে এসেছিল।  তারপর থেকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মাঝে মধ্যে কেয়াকে ডিবি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এসে খোঁজ খবর নিতো। এখন দেখছি কেয়া ও আরাভকে নিয়ে গ্রামের মানুষ খবর দেখার জন্য টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে চোখ রাখছে। খবর নিচ্ছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মামলাটি ব্যাপক আলোচনায় আসার পর কয়েকদিন আগে ডিএমপি পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে সুরাইয়া আক্তার কেয়ার খোঁজখবর নিতে একটি চিঠি দিয়েছে। খোঁজখবর নেওয়ার কাজ অব্যাহত আছে। তার সম্পর্কে অনেকেই ভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, দুবাই আছে আবার কেউ বলছেন মালয়েশিয়া। আমরা চেষ্টা করছি তার সঠিক অবস্থান জানার।

 

 

 

আরাভের প্রথম স্ত্রী মেহেরপুরের কেয়াও পুলিশ হত্যা মামলার আসামি

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের অ্যাবোটাবাদে একটি গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) এক নেতাসহ ১০ জন । সোমবার (২০ মার্চ) হামলার এ ঘটনা ঘটে।

অ্যাবোটাবাদ জেলা পুলিশ কর্মকর্তা উমর তোফায়েল এ হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পিটিআইয়ের ওই নেতাকে বহনকারী গাড়িটি হ্যাভেলিয়ান লাঙ্গরা গ্রামে অবস্থান করছিল। এ সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। হামলার পরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়।

নিহত পিটিআই নেতা আতিফ বস্তি শের খানের বাসিন্দা। সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী মুনসিফ খান জাদুনের ছেলে তিনি।

২০২২ সালের পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাভেলিয়ান তহসিল নাজিম নির্বাচিত হন আতিফ।

পাকিস্তানে গাড়িতে হামলায় পিটিআই নেতাসহ ১০ জন নিহত