27 Feb 2025, 11:59 am

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সরকারি চিকিৎসকরা আগামী ৩০ মার্চ  থেকে অফিস সময়ের পর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভিজিট নিয়ে রোগী দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘সরকারি চিকিৎসকদের বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা’ সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।
জাহিদ মালেক বলেন, আগামী ৩০ মার্চ থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস চালু করার চেষ্টা করছি। প্রথমে ১০টি জেলা ও ২০টি উপজেলা হাসপাতালে এ কার্যক্রম শুরু করব।’
তিনি জানান, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই প্র্যাকটিস করতে পারবেন চিকিৎসকরা। এতে নার্স ও টেকনিশিয়ানরাও সপ্তাহে দুদিন করে কাজ করবেন। তারা যে সেবা দেবেন, তার বিনিময়ে তাদের সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। তার একটি অংশ পাবেন চিকিৎসকরা, বাকিটা অন্যরা। সরকারও একটি অংশ পাবে।
সম্মানি নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, চেম্বার ডিউটিতে প্রাথমিকভাবে একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের (অধ্যাপক) ফি ৫০০ টাকা, তবে তিনি পাবেন ৪০০ টাকা। সিনিয়র কনসালটেন্টের ফি ৪০০ টাকা, তিনি পাবেন ৩০০ টাকা। সহকারী অধ্যাপকের ফি ৩০০ টাকা, তিনি পাবেন ২০০ টাকা। এমবিবিএস চিকিৎসকের ফি ২০০ টাকা তিনি পাবেন ১৫০ টাকা। আর এসব চিকিৎসকদের যারা সহযোগিতা করবেন, তারা পাবেন ৫০ টাকা করে, শুধুমাত্র এমবিবিএস চিকিৎসকের সহকারিরা পাবেন ২৫ টাকা করে।
জাহিদ মালেক বলেন, আমরা দু-তিন মাস ধরে ইনস্টিটিউশন প্র্যাকটিস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল: এই টার্মের শুরুতেই ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস শুরু করা হোক। কিন্তু  ডেঙ্গু ও করোনার কারণে তা আমরা শুরু করতে পারিনি। কিন্তু এখন আমরা আস্তে আস্তে সব জেলা ও উপজেলায় শুরু করব।

৩০ মার্চ থেকে হাসপাতালেই ভিজিট নিয়ে রোগী দেখবেন চিকিৎসকরা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দেশে ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সোমবার (২৭ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও চারজন নতুন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন চারজন ডেঙ্গুরোগী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারাদেশে ২২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩ জন ও ঢাকার বাইরে নয়জন।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮২৯ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৪১২ জন ও ঢাকার বাইরে ৪১৭ জন।

একই সময়ে সারাদেশে ছাড়প্রাপ্ত ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ৭৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ছাড়প্রাপ্ত ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ৩৯৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৪০৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬২ হাজার ৩৮২ জন ও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২৮১ জন।

 

 

 

 

দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪ জন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ হাজার ৫৭৯ মানুষ।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ায়। অন্যদিকে প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে তাইওয়ান, জাপান ও চিলি। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৩৩ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার।

সোমবার (২৭ মার্চ) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে অর্ধশতাধিক। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯২৫ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ হাজার ৫৭৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ১০ হাজারে। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ায়। গত ২৪ ঘণ্টায় এই দেশটিতে নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১০ হাজার ৯৪০ জন এবং মারা গেছেন ৩২ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ২৫ লাখ ৮৬ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮ জনের।

জাপানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৩২৪ জন এবং মারা গেছেন ২২ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৪ লাখ ২১ হাজার ৭৮৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৭৩ হাজার ৭৪৭ জন মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪১১ জন এবং মারা গেছেন ৬ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ৬১ লাখ ২ হাজার ২৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩০ জন মারা গেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৬১ জন এবং মারা গেছেন ৩ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ২৫৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ২২০ জনের। একইসময়ে ফ্রান্সে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২১১ জন।

তাইওয়ানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন এবং মারা গেছেন ২৯ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে এই ভূখণ্ডটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৮ হাজার ৯৮৫ জন মারা গেছেন। একইসময়ে চিলিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৪৬ জন এবং মারা গেছেন ১৫ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১৩৯ জনের মৃত্যু ; শনাক্ত ৪৩ হাজার ৫৭৯

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : নানা আনুষ্ঠানিকতায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫২ বছর পুর্তির এ আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা ও সোসাইটির পতাকা উত্তোলন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, হাসপাতালে রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণ ও রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম।

রোববার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নূর-উর-রহমান।

এসময় সোসাইটির মহাসচিব কাজী শফিকুল আযম উত্তোলন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পতাকা। পরে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নূর-উর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ গোটা বিশ্বের কাছে রোল মডেল। বাংলাদেশ আজ অনেক খাতেই রপ্তানিতে শীর্ষে অবস্থান করছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বেই তা সম্ভব হয়েছে।

সামাজিক অবক্ষয়ের এই অস্থির সময়ে রেড ক্রিসেন্টের যুব স্বেচ্ছাসেবকদের মানবতার কল্যাণে ত্যাগ ও সেবার মনোভাব নিয়ে সততার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য রাজিয়া সুলতানা লুনা।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সোসাইটির মহাসচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নে যার যার অবস্থান থেকে যথাযথভাবে কাজ করে যেতে হবে। তবেই পরবর্তী প্রজন্ম স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারবে।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতায় সোসাইটির উপ-মহাসচিব সুলতান আহমেদ, ডিজাস্টার রেসপন্স বিভাগের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, অর্থ বিভাগের পরিচালক এএইচএম মাইনুল ইসলাম এবং ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক এমএ হালিমসহ সোসাইটির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সোসাইটির সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সোসাইটির যুব-স্বেচ্ছাসেবকরা।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে উন্নত খাবার বিতরণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

 

 

 

রক্ত সংগ্রহ করে স্বাধীনতা দিবস পালন করলো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৫৪ হাজার ৪০১ জন।

নতুন মৃত্যু নিয়ে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বে মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৫২৫ জন।

আর নতুন আক্রান্ত নিয়ে বিশ্বে মোট শনাক্ত রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৪২৮ জনে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৫ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ জন।

রবিবার (২৬ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

গত একদিনে করোনায় সবচেয়ে বেশি ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে জাপানে। দেশটিতে একই সময়ে শনাক্ত হয়েছেন আট হাজার ২৮৬ জন। এ নিয়ে এশিয়ার এ দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো তিন কোটি ৩৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৬১ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৭৩ হাজার ৭২৫ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুই কোটি ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৮১ জন।

দৈনিক মৃত্যুর হিসাবে জাপানের পরই রাশিয়ার অবস্থান। দেশটিতে একদিনে মারা গেছেন ৩৭ জন করোনা রোগী। একদিনে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ৩৮২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে শনাক্ত বেড়ে দাঁড়ালো দুই কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৭০ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন তিন লাখ ৯৭ হাজার ৪৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন দুই কোটি ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৪ জন।

গত একদিনে মৃত্যুর হিসাবে তৃতীয় অবস্থানে তাইওয়ান। দেশটিতে একদিনে মারা গেছেন ২৫ জন এবং শনাক্ত হয়েছেন ১৪ জন। এ নিয়ে শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি দুই লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৮ হাজার ৯৫৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন এক কোটি ৮৬ হাজার ১০৬ জন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে গত একদিনে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩৩৩ জন রোগী এবং মারা গেছেন সাতজন। এ নিয়ে দেশটিতে শনাক্ত বেড়ে হলো ১০ কোটি ৬০ লাখ ৯০ হাজার ১৬৮ জন এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৭ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০ কোটি ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫২৪ জন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত একদিনে শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ১৫৫ জন এবং মারা গেছেন ছয়জন । এ নিয়ে দেশটিতে শনাক্ত বেড়ে দাঁড়ালো তিন কোটি সাত লাখ ৫৯ হাজার ৮৯৫ জনে এবং মৃত বেড়ে হলো ৩৪ হাজার ২১৭ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন তিন কোটি পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ২৮৮ জন।

পোল্যান্ডে একদিনে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩৫৯ জন এবং মারা গেছেণ ১৩ জন। ইন্দোনেশিয়ায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৪৩৬ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। ফ্রান্সে একদিনে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা আট হাজার ৪৩৫ জন। চিলিতে শনাক্ত হয়েছেণ তিন হাজার ২৪ জন এবং মারা গেছেন ১৪ জন।

 

বিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনায় ১৯৬ জনের মৃত্যু ; শনাক্ত ৫৪ হাজার ৪০১

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : তিন বছরের পুরনো গবেষণার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, চীনের উহানের বন্যপ্রাণী বাজারের রেকুন ডগ থেকে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ভাইরাস ছড়িয়ে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছেন, কীভাবে প্রথম কোভিড-১৯ ভাইরাস মানব শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার ‘সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ’ তারা খুঁজে পেয়েছেন।

এই শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভাইরাসটি কীভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে নানারকম গবেষণা হয়েছে, যার মধ্যে পরস্পরবিরোধী তত্ত্ব রয়েছে, যার মধ্যে রাজনীতিও ঢুকে পড়েছে। যদিও সেসব থিওরির কোনোটিই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত হয়নি।

এসব জটিলতার মধ্যে নতুন এই গবেষণার তথ্যকে একটি মোড়বদলকারী ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস হিসাবে একটি নির্দিষ্ট প্রাণী প্রজাতিকে লক্ষ্য করে সর্বশেষ এই গবেষণাটি করা হয়।

তিন বছর আগে উহানের হুয়ানান বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ওপর ভিত্তি করে এসব বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। শুরু থেকেই ধারণা করা হয়েছিল যে, ওই বাজার থেকেই ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে।

গত ২০শে মার্চ এই গবেষণার ফলাফল একটি অনলাইন জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে।

যখন কোভিড একটি রহস্যময় রোগ হিসাবে বিজ্ঞানীদের কাছে পরিচিত ছিল, সেই ২০২০ সালের প্রথমদিকে ওই বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করেছিল চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)।

সম্প্রতি সেসব নমুনার জেনেটিক তথ্য বের করা হয়েছে, যা সংক্ষিপ্ত এবং সার্বজনীন। সেসব তথ্য পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীদের একটি দল কোভিড-১৯ ভাইরাস বিস্তারের জন্য মধ্যবর্তী বাহক হিসাবে ‘রেকুন ডগ’ নামে একটি কুকুরজাতীয় প্রাণীকে শনাক্ত করেছেন, যেখানে থেকে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, বাজারের যে জায়গা থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় সার্স কোভ-২ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং যেখানে বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী মাংসের জন্য বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল, – সেখানে এই রেকুন কুকুরের লালাও পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চীনের উহানের বাজারে বন্যপ্রাণী বিক্রি এবং কোভিড মহামারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা গেছে।

কিন্তু করোনাভাইরাসের উৎস খোঁজার ব্যাপক অনুসন্ধান এবং দীর্ঘদিন আগেই সেই বাজারটি বন্ধ করে দেয়া, বিক্রির জন্য আনা প্রাণীগুলোকে মেরে ফেলার কারণে এই বিষয়ে একেবারে নিশ্চিত কোন প্রমাণ নেই।

তিন বছর আগে এই গবেষণাটি করা হলেও সেটার ফলাফল প্রকাশে এতো বেশি দেরি হওয়াকেও অনেক বিজ্ঞানী ‘কলঙ্কজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

‘কোন গবেষণাগার থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল’ – যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের মধ্যে এমন একটি তত্ত্ব যখন জোরালো ভিত্তি পেতে শুরু করেছে, তেমন আভাসের মধ্যেই এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হলো।

চীনের সরকার অবশ্য সেদেশের কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে ভাইরাসটির জন্ম হয়েছিল বলে যে ধারণা করা হচ্ছে, তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি ধারণা করছে যে, সেটা ‘হলেও হতে পারে’।

ভাইরাসের উৎপত্তি রহস্য নিয়ে তদন্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পহেলা মার্চ এফবিআইয়ের পরিচালক চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তারা তদন্তে ‘বিভ্রান্তি এবং অস্পষ্টতা’ তৈরি করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, চীনের কোন গবেষণাগার থেকে ভাইরাসটির বিস্তার তত্ত্বের ব্যাপারে অনেকদিন ধরেই এফবিআই নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু সেটা জানার পরেও কেন এফবিআই এসব তথ্য প্রকাশ করেনি, তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কোন কোন বিজ্ঞানী।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে তিন বছর ধরে যারা কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তারা বিশ্বাস করেন, কীভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল, এই নতুন গবেষণা তা বোঝার জন্য সবচেয়ে কাছাকাছি থিওরি বা তত্ত্ব হতে পারে।

সেই সঙ্গে চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যে বিভেদ তৈরি হয়েছে, তা রহস্য সমাধানের বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

নতুন গবেষণায় কী জানা যাচ্ছে?

চীনে বন্যপ্রাণী বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনাগুলোর জিনগত বিশ্লেষণ করে দেখেছেন প্যারিসের ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইন্সটিটিউটের সিনিয়র গবেষক ড. ফ্লোরেন্স ডেবারে।

তিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সায়েন্স ইন অ্যাকশন প্রোগ্রামকে বলেছেন, যখন তিনি প্রথম জানতে পারেন যে, এই ধরনের কিছু তথ্য রয়েছে, সেটা পাওয়ার জন্য তিনি পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলেন।

বিজ্ঞানীদের এই ধরনের তথ্য শেয়ার করার প্লাটফর্ম- জিআইএসএআইডি নামের একটি জেনেটিক তথ্যভাণ্ডারে এসব জেনেটিক কোড পাওয়ার এবং ডাউনলোড করে নেয়ার পর তিনি এবং তার সহকর্মীরা বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন যে, চীনের ওই বাজারে ভাইরাসের স্থান থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে কোন জাতীয় প্রাণীর নমুনার মিল রয়েছে।

‘’আমরা কম্পিউটার স্ক্রিনে যেসব ফলাফল পেয়েছি, তা হলো, রেকুন কুকুর, রেকুন কুকুর, রেকুন কুকুর, রেকুন কুকুর,’’ তিনি বলছেন।

রেকুন ডগ হচ্ছে এমন একটি ছোট আকারের কুকুর-সদৃশ প্রাণী, যার সঙ্গে শিয়ালেরও অনেক মিল আছে। পূর্ব এশিয়ার চীন, জাপান, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের বেশ কিছু অঞ্চলে এ প্রাণীটির আবাসস্থল রয়েছে।

ড. ডেবারে ব্যাখ্যা করছেন, ‘’সুতরাং আমরা একই জায়গায় একই সঙ্গে ভাইরাস এবং (বাহক) প্রাণী খুঁজে পেয়েছি,’’।

‘’এর মানে এই না যে, ওই কুকুরগুলো সংক্রমিত হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত আমরা যত ব্যাখ্যা পেয়েছি, তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা,’’ তিনি বলছেন।

এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডি হোমসের মতে, ভাইরাসটি কীভাবে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে এসেছে, এটাই তার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ।

প্রফেসর হোমস বিবিসিকে বলছেন, ‘’আমরা আর কখনোই সেই বাহক প্রাণীটিকে খুঁজে পাবো না, কারণ সেটি (তথ্যপ্রমাণ) হারিয়ে গেছে।‘’

‘’কিন্তু এই পুরো ব্যাপারটি অসাধারণ যে, জেনেটিক তথ্যের মাধ্যমে সেটাকে খুঁজে পাওয়া গেছে- আর এর মাধ্যমে শুধু সেটা কোন প্রজাতি তাই নয়, তারা বাজারের ঠিক কোন জায়গায় ছিল, সেটাও আমরা জানতে পারছি,‘’ তিনি বিবিসিকে বলেছেন।

সর্বশেষ এই গবেষণায় পাওয়া নতুন তথ্যগুলো কোভিড মহামারীর উৎস সম্পর্কে আরও জানতে বা গবেষণা করতে মূল ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, সেই গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জটিল হবে।

রটারডামের ইরাসমাস ইউনিভার্সিটিরই অধ্যাপক মেরিয়ন কুপম্যানস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্তকারী দলের সদস্য ছিলেন, যারার ২০২০ সালে উহানে গিয়েছিল।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলছেন, ‘’নতুন গবেষণায় এসব প্রাণীর অবস্থান নির্দিষ্ট স্টল বা দোকানে থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে দিয়েছে। সেখানে বিক্রি করা প্রাণী গুলোয় কোথা থেকে এসেছে, তা আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।‘’

‘’কিন্তু এটা যদি অবৈধ বিক্রির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হলো যে, আপনি সেসব তথ্য আর খুঁজে পাবেন কিনা।‘’

যেসব খামারে এসব প্রাণী বড় করা হয়েছে, সেখানেও জৈবিক প্রমাণ থাকতে পারে। গবেষকরা যদি সেসব খামারের প্রাণীতে অ্যান্টিবডি দেখতে পান, যা প্রমাণ করে যে, এসব প্রাণী সার্স কোভ-২ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। সেটাও গবেষকদের আরেকটি সূত্র দিতে পারে।

জেনেটিক এসব তথ্য গবেষণার বা তদন্তের ক্ষেত্র অনেক কমিয়ে আনতে পারে।

তবে অধ্যাপক হোমস বলছেন, কোন প্রাণীর মধ্যে আসল ভাইরাসটি খুঁজে বের করা বেশ কঠিন একটা কাজ হবে।

মহামারী কীভাবে শুরু হয়েছি, সেই উত্তর পাওয়া যাবে?

এই গবেষণায় সেটা অবশ্যই নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। হয়তো এটা এমন একটা উত্তর, যা কোনদিনই জানা যাবে না।

সেই উত্তর খোঁজার কাজটি এখন ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক এবং বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।

এই গবেষণায় যদিও আগের তত্ত্বকেই জোরালো করে তুলছে যে, ভাইরাসটি বন্য প্রাণী থেকে উদ্ভূত হয় এবং উহানের বাজারেই তা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।

কিন্তু আরেকটি থিওরিতে বলা হচ্ছে যে, উহান ইন্সটিটিউট অফ ভাইরোলজির একটি গবেষণাগার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং মহামারীর উৎস সম্পর্কে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন শুনানির পর এফবিআইয়ের পদক্ষেপের কারণে দ্বিতীয় থিওরিটি শিরোনাম হয়ে উঠেছে।

বিবিসির সায়েন্স ইন অ্যাকশনের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক হোমস এর আগের একটি গবেষণার ফলাফলের দিকে গুরুত্বারোপ করেছেন।

‘’মহামারীটি বাজার থেকেই ছড়াতে শুরু করেছিল। এখন আমরা বুঝতে পারছি যে, কেন মূল প্রাণীগুলো সেখানে ছিল।‘’

‘’উহানের গবেষণাগারের আশপাশ থেকে মহামারীর সূত্রপাত হয়নি, সেটা ৩০ কিলোমিটার দূরে ছিল। প্রথমদিকে গবেষণাগারের আশেপাশে সংক্রমণেরও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি,‘’ তিনি বলছেন।

এসব মূল্যবান তথ্য প্রকাশে তিন বছরের বেশি সময় ধরে বিলম্ব করায় চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) প্রতি ক্ষোভ ও হতাশাও প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

‘’এসব তথ্য তিন বছরের পুরনো- এতদিন ধরে সেটা প্রকাশ না করা একটা বড় ধরনের লজ্জাজনক ব্যাপার,’’ বলছেন অধ্যাপক হোমস।

জিআইএসএআইডি তথ্যভাণ্ডারে এসব তথ্য আপলোড করা হয়েছিল এই বছরের জানুয়ারি মাসে। কিন্তু কেউ সেটা লক্ষ্য করেনি।

ধারণা করা হয় যে, এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চীনের সিডিসির গবেষকদের তৈরি করা একটি গবেষণার সহায়তা নথিপত্র হিসাবে এটা আপলোড করা হয়েছিল। (বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশের জন্য এ ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য অন্যতম পূর্বশর্ত হিসাবে বিবেচিত হয়।)

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই চীনা গবেষকরা জানতে পারেন যে, অন্যরা তথ্যটি দেখতে পেয়েছে। এরপর সেসব তথ্য আবার লুকিয়ে ফেলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস গেব্রেইয়েসুস গত ১৭ই মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘’(মহামারী উৎস) রহস্যের উত্তরের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য প্রতিটি তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ’’ এবং ‘’কোভিড-১৯ এর উৎস সম্পর্কিত যেকোনো গবেষণার প্রতিটি তথ্য অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করা উচিত।‘’

‘’আমাদের রাজনীতির বাইরে যেতে হবে এবং বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের চর্চা করতে হবে, ‘’ তিনি বলেছেন।

মি. ঘেব্রেইয়েসাস আরও বলেছেন, ‘’বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস আসে- এটা আমাদের সেই বিবর্তনের ইতিহাস থেকেই একটি প্রচলিত সত্য। এখানে আমরা যেটা করতে পারি, তা হলো এই বন্যপ্রাণী থেকে নিজেদের আলাদা করে রাখা এবং আরও ভালো নজরদারি করা। ‘’কারণ এটি আবারও ঘটবে।‘’ সূত্র: বাসস

 

চীনের উহানে রেকুন ডগ থেকে ছড়িয়েছিলো করোনা ভাইরাস !

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭১ জনের মৃত্যু হযেছে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার ৮ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে  রাশিয়া, জাপান, তাইওয়ান ও পোল্যান্ড। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৮ কোটি ২৮ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৮ লাখ ২২ হাজার।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৭১ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩ জন। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৮ লাখ ২২ হাজার ২৫৮ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার ৮ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে দেড় হাজারের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ২৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১৩ হাজার ৮১ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৭ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪ হাজার ১৮৭ জনের।

অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় এই দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৯০ জন এবং মারা গেছেন ১৩৩ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১ লাখ ৫২ হাজার ২৯৪ জন মারা গেছেন।

রাশিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১২ হাজার ১ জন এবং মারা গেছেন ৩৯ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৮ জনের। একইসময়ে পোল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৮ জন এবং মারা গেছেন ২৯ জন।

ফ্রান্সে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৬২ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৬ হাজার ৩০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪২৫ জন মারা গেছেন। একইসময়ে হাঙ্গেরিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪১ জন এবং মারা গেছেন ১৬ জন।

জাপানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৪৬০ জন এবং মারা গেছেন ৩০ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৭৩ হাজার ৫৯২ জন মারা গেছেন। একইসময়ে কলম্বিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৭ জন এবং মারা গেছেন ১৩ জন।

তাইওয়ানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭১ জন এবং মারা গেছেন ২৯ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে এই ভূখণ্ডটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৮ হাজার ৮৫২ জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৭১ জনের মৃত্যু ; শনাক্ত ৬৮ হাজার ৮

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর একটি বিদ্যালয়ের ২১৭ জন শিক্ষার্থীকে আগামী  ৩ বছর খাওয়ানো হবে পুষ্টিকর দুধ। বুধবার দুপুরে উপজেলার পারদখলপুর  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ স্কুল মিল্ক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হুসাইন এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: উজ্জ্বল কুমার কুন্ডুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।আয়োজকরা জানান, প্রাণীসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচিতে আগামী ৩ বছর ওই বিদ্যালয়ের ২১৭ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পাস্তুরিত দুধ খাওয়ানো হবে। শিক্ষার্থীদের প্রাণিজ পুষ্টির যোগান, স্কুলের প্রতি আরও আগ্রহ করে তোলা, ও স্থানীয় খামারীদের দুধ বিক্রয় সহজ করবে এই কর্মসূচিটি।

 

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে স্কুল মিল্ক কর্মসূচির উদ্বোধন, ৩ বছর ২১৭ শিশুকে খাওয়ানো হবে দুধ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশে অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে এ রমজানে একটি বড় আকারের প্রচারাভিযান শুরু করছে ইউনিসেফ। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তহবিল সংগ্রহের এ প্রচারাভিযানের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেণি, যারা নিজ দেশের শিশুদের অনুদান দিতে সক্ষম, তাদের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার (২২ মার্চ) জাতিসংঘ শিশুবিষয়ক তহবিলের (ইউনিসেফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একটি শক্তিশালী অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশ ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সাফল্যের অর্থ হলো বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়া।

ইউনিসেফের প্রচারাভিযানের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টি আমাদের জনসংখ্যার সুবিধাবঞ্চিত অংশের যত্ন নেওয়া এবং কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের সাফল্য শিশুদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়া দরকার, যারা আমাদের ভবিষ্যত এবং যারা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্থতার জন্য ওপর নির্ভর করে।’

ইউনিসেফের তহবিল সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় দানের ওপর নির্ভরশীল। সংস্থাটি বাংলাদেশে ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের জীবন বাঁচাতে ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী ইউনিসেফ অন্য যেকোনো মানবিক সংস্থার চেয়ে বেশি সংখ্যক শিশুর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।

রমজানে দেশজুড়ে অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ইউনিসেফের তহবিল সংগ্রহের এ প্রচারাভিযান দেশের মানুষের ভালো কাজগুলোকে অনুপ্রাণিত করতে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে প্রথম আহ্বান।

অপুষ্টির সবচেয়ে সাধারণ ধরন হল ‘স্ট্যান্টিং’ বা খর্বাকৃতির (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা) হওয়া অথবা ‘ওয়েস্টিং’ বা শীর্ণকায় (উচ্চতার তুলনায় কম ওজন) হয়ে যাওয়া। অপুষ্টি মোকাবিলায় বাংলাদেশ দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্ট্যান্টিং ২০১৩ সালের ৪২ শতাংশ থেকে কমে ২০১৯ সালে ২৮ শতাংশে হয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৫০ লাখের বেশি শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে।

দীর্ঘস্থায়ী বা ঘনঘন পুষ্টিঘাটতির কারণে ‘স্ট্যান্টিং’ দেখা দেয় এবং স্ট্যান্টিংয়ের কারণে একটি শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কের যে ক্ষতি হয় তা পূরণ করা যায় না। এটি প্রথমে স্কুলে এবং পরে কর্মক্ষেত্রে কাজের দক্ষতা কমিয়ে দেয় এবং শিশুদের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়।

‘ওয়েস্টিং’ হল পুষ্টির ঘাটতিজনিত অবস্থার একটি তীব্র রূপ, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এর ফলে খাবারের অভাবে বা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক মাত্রায় ওজন কমে যায়।

অতিদরিদ্র পরিবারগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুদের ‘স্ট্যান্টিং’ ও ‘ওয়েস্টিং’-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আর যখন বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় আঘাত হানে, তখন আগে থেকেই অরক্ষিত অবস্থায় থাকা এ শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা অন্যতম মহৎ একটি উদ্যোগ। এ রমজানে ইউনিসেফ, বাংলাদেশের মানুষকে নিজ দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’

 

অপুষ্টির শিকার শিশুদের জন্য বাংলাদেশে তহবিল সংগ্রহ করবে ইউনিসেফ