March 11, 2026, 5:54 am
শিরোনামঃ
৫ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ রাষ্ট্র পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ ফ্যামিলি কার্ড : অর্থমন্ত্রী নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : বাণিজ্যমন্ত্রী নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু গোপালগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য আইফোন ছিনিয়ে বন্ধুকে হত্যা হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অত্যাধুনিক ক্লাস্টার ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি করেছে ইরান আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন নেতা টিকবেন না : ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

আমেরিকায় মৃত্যুকূপে নেমে ‘মানব সিঁড়ি’ হয়ে ছেলেকে বাঁচিয়েছিলেন বাবা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সন্তানের জন্য বাবার আত্মত্যাগ যে কতটা নিঃস্বার্থ হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ৬৬ বছর বয়সী টমাস ভ্যান্ডার উড। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে ২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সকালে। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন বিমান বাহিনীর পাইলট টমাস ভ্যান্ডার উড সেদিন বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন তার ২০ বছর বয়সী ছেলে জোসেফকে সঙ্গে নিয়ে। জোসেফ ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাবার সঙ্গেই সময় কাটাতে ভালোবাসতেন।

বুধবার ২৮ জানুয়ারি, প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ক্যাথলিক রেজিস্টার।

প্রতিবেদন তথ্য থেকে জানা যায়, হঠাৎ বাড়ির উঠোনে থাকা একটি সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা সরে গেলে জোসেফ প্রায় সাত ফুট গভীর ওই ট্যাংকে পড়ে যায়। ট্যাংকটি কাদা, বর্জ্য ও বিষাক্ত গ্যাসে পরিপূর্ণ ছিল। সাঁতার না জানায় এবং ভারী কাদার কারণে জোসেফ দ্রুত তলিয়ে যেতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে টমাস কোনো দ্বিধা না করে ছেলের পেছনে নিজেও ট্যাংকে ঝাঁপ দেন। তবে গভীরতা ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তিনি ছেলেকে ওপরে তুলতে পারছিলেন না। তখনই তিনি নেন এক চরম সিদ্ধান্ত। ছেলেকে বাঁচাতে টমাস নিজের শরীর সম্পূর্ণভাবে নিচে ডুবিয়ে দেন এবং জোসেফকে কাঁধের ওপর তুলে ধরেন। নিজেকে তিনি পরিণত করেন একটি ‘মানব সিঁড়ি’তে, যাতে ছেলের মাথা পানির ওপরে থাকে এবং সে শ্বাস নিতে পারে।

এ সময় টমাসের স্ত্রী মেরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি সেবায় ফোন করেন। উদ্ধারকর্মীরা এসে দেখেন, জোসেফ এখনও বেঁচে আছে—সে তার বাবার কাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে টমাস তখন সম্পূর্ণভাবে বর্জ্যের নিচে তলিয়ে গিয়েছিলেন।

উদ্ধারকারীরা দড়ির সাহায্যে জোসেফকে টেনে তোলেন। পরে টমাসকে উদ্ধার করা হলেও বিষাক্ত গ্যাস ও দীর্ঘক্ষণ শ্বাসরুদ্ধ থাকার কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যায় জোসেফ। বাবার শক্ত কাঁধই তাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে।

টমাসের আরেক ছেলে এস. জোসেফ ভ্যান্ডার উড এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার বাবা জানতেন তিনি কী করছেন। তিনি বুঝেছিলেন হয়তো আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু তার কাছে জোসেফের জীবন নিজের জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই আত্মত্যাগের ঘটনা বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। টমাস ভ্যান্ডার উড প্রমাণ করে গেছেন—বাবারা সুপারহিরোর পোশাক পরেন না, কিন্তু সন্তানের প্রয়োজনে তারা নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেন না।

আজকের বাংলা তারিখ

March ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Feb    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  


Our Like Page