অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : অধিকৃত ফিলিস্তিনের ইহুদি অভিবাসীরা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং বিচারবিভাগে তার সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে টানা ২৩তম সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করে আসছে।
গত শনিবার এমন সময় তারা বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছে যখন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের মধ্যস্থতায় নেতানিয়াহুর মন্ত্রীসভা ও বিরোধী দল বিচারিক কাঠামো সংস্কার পরিকল্পনার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছার ব্যাপারে আলোচনায় বসেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে আলোচনায় সমঝোতার কোনো কথা শোনা যায়নি। এর আগে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ইসরাইলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর মতভেদ ও সংকট চলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি তিনি ইসরাইলিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বাধার বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে, ডানপন্থী নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ফলে অধিকৃত অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। খোদ ইসরাইলের অনেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ বাধা এবং এমনকি ভেতর থেকে অবৈধ এই রাষ্ট্রের ধসে পড়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন চরমপন্থী জোট সরকার সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষমতা সীমিত করার পদক্ষেপ নেয়ায় তা ইসরাইলের সোশাল মিডিয়ার স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে গত কয়েক মাস ধরে ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে সরকারের এ সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে নাগরিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তবে, ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা বিচারবিভাগের সংস্কার সংক্রান্ত বিলের ব্যাপারে বেশ কিছুদিন নীরব থাকায় অশান্তির আগুন কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু ফের বিচারবিভাগ সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করায় ইসরাইল জুড়ে অশান্তির আগুন আবারো জ্বলে উঠেছে। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও ওই বিলের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, নেতানিয়াহু কেবল নিজের দল ও জোটের স্বার্থে বিচারবিভাগ সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে, নেতানিয়াহুর দাবি বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের পথ বন্ধ করতেই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি এও বলেছেন, বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ নীতি যেন সীমানার বাইরে চলে না যায় সে জন্যই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তার সমালোচকরা বলছেন, এতে করে ইসরাইলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিভিন্ন মামলা থেকে বেচে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ তৈরি হবে। তারা আরো সতর্ক করে বলেছেন, এতে করে সরকার মাত্রাতিরিক্ত স্বাধীনতা পাবে এবং দুর্নীতি বাড়বে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুকে নিজের অথবা ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এ দুটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিনি নিজেকে টিকিয়ে রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। এখনই লিকুদ দলের মধ্যে তার স্থলাভিষিক্ত নিয়েও কথাবার্তা হচ্ছে। তার জনপ্রিয়তা বেনি গান্তেজের চেয়েও নীচে এবং আগামী নির্বাচনেই তা স্পষ্ট হবে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ শেষ পর্যন্ত তাদেরকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।