অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কানাডার বিরুদ্ধে আরোপিত শুল্ক (ট্যারিফ) বাতিলের পক্ষে ভোট দেওয়া আইনপ্রণেতাদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন।
পার্সটুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, “ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন: কোনো রিপাবলিকান যদি শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দেয়, তাহলে সে নির্বাচনে এমনকি প্রাথমিক নির্বাচনেও কঠিন রাজনৈতিক পরিণতির মুখে পড়বে।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি কানাডার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করে। ২১৯ ভোট পক্ষে এবং ২১১ ভোট বিপক্ষে দিয়ে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান নেতাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি আপত্তি ও চ্যালেঞ্জের পথ বন্ধ করা। কয়েকজন রিপাবলিকান ও সব ডেমোক্র্যাটের সমর্থনে প্রতিনিধি পরিষদ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, যা শুল্কবিরোধী প্রস্তাব ও রেজুলেশন উত্থাপন নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল। এটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শুল্ক বাতিলের উদ্যোগের পথ উন্মুক্ত করে দেয়।
এই ভোটাভুটিতে ২১৭ ভোট বিপক্ষে এবং ২১৪ ভোট পক্ষে পড়ে। তিনজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি ২১৪ জন ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। এই নিষেধাজ্ঞাটি একটি বড় আইনগত প্যাকেজের অংশ ছিল, যার লক্ষ্য ছিল তিনটি সম্পর্কহীন বিল পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করা।
নেব্রাস্কার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ড্যান বেকন বলেন, শুল্ক আসলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো এক ধরনের কর, যা ভোক্তা, উৎপাদক ও কৃষকদের ক্ষতি করে।
ডেমোক্র্যাটরা এখন সেই জাতীয় জরুরি অবস্থা বাতিলের চেষ্টা করছেন, যেটি ব্যবহার করে ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তারা মেক্সিকো ও অন্যান্য দেশের ওপর দেওয়া শুল্ক বাতিলের প্রস্তাবও আনতে চান। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন আগে বলেছিলেন, তিনি এই প্রস্তাব পাস হওয়ার আশা করছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য রায়ের প্রেক্ষাপটে এটিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।
এর আগে ট্রাম্প হঠাৎ করেই কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেন যে, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র অটোয়ার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকানের বিপরীত মতের বিপরীতে ট্রাম্প দাবি করেন, তার শুল্কনীতি ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি বলেন: “আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি ৭৮ শতাংশ কমেছে, ডাও জোন্স সূচক ৫০,০০০-এ এবং এসঅ্যান্ডপি ৭,০০০-এ পৌঁছেছে- যা এক বছর আগেও অসম্ভব মনে হতো।”
তিনি আরও বলেন: “শুল্ক আমাদের জন্য বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা এনে দিয়েছে, কারণ শুধু এই শব্দটি উচ্চারণ করলেই দেশগুলো আমাদের শক্তিশালী দাবিগুলোর সঙ্গে একমত হয়ে যায়।” ট্রাম্প যোগ করেন: “শুল্ক আমাদের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা দিয়েছে এবং কোনো রিপাবলিকানেরই এই সুবিধা নষ্ট করার দায় নেওয়া উচিত নয়।