অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নান্দাইলের একই পরিবারের ৪জন সহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে আন্তনগর এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনকে মালবাহী একটি ট্রেন পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে বিভিন্ন জেলার ২০ জনের বেশি হতাহত হয়। আহত হয় শতাধিক যাত্রী। এই ঘটনায় কৃষক রইছ উদ্দিনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
জানা গেছে, নিহতরা হলো রাজগাতি ইউনিয়নের বনাটি গ্রামের রইছ উদ্দিনের পুত্র সুজন মিয়া (৩৫), সুজনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৩০), পুত্র সজীব মিয়া (১২) ও ইসমাইল মিয়া (৭)। অন্যজন হচ্ছেন- মুশুলী ইউনিয়নের নবিয়াবাদ গ্রামের আরজু মিয়ার কন্যা হোসনা আক্তার (২৩)।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনে ছিলেন সুজন মিয়ার ভাই স্বপন মিয়া। তিনি জানান, আমার ভাই ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানে তিনি ভ্যানে ডাব বিক্রি করে সংসার চালাতেন। শুক্রবার বড় ভাইয়ের ছেলে রোমান মিয়ার (২২) বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়িতে আসে সবাই। অনুষ্ঠান শেষে সোমবার ট্রেনে করে ঢাকায় যাওয়ার পথে ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের পরিবারের সবাই ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আমি অন্য বগিতে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে গেছি।
মঙ্গলবার সকালে নিহতদের জানাজা শেষে সুজনের বাবা রইছ উদ্দিন বাড়ির উঠানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় স্বজনরা তাকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সুজনের মা সহিলা আক্তার বলেন, দুইটা নাতিরে আদর করে বিদায় দিছিলাম। কে জানত এই বিদায় শেষ বিদায় হয়ে হইবো।
এদিকে এক পরিবারে চার সদস্য নিহতের খবর শুনে সমবেদনা জানাতে বনাটি গ্রামে যান নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুন কৃষ্ণ পাল ও থানার ওসি রাশেদুজ্জামান। ইউএনও জানান, নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। আর উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। দ্রুত পরিষদের মাধ্যমে ওই পরিবারকে সহযোগিতা করবো।