September 13, 2026, 5:29 pm
শিরোনামঃ
২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জামালপুরে ৭ বছরের শিশুর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার কুমিল্লায় পরিত্যক্ত বাড়ির পুকুর থেকে কিশোরের গলিত মরদেহ উদ্ধার ‘তৃণমূল’ সরকার বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিল : শুভেন্দু অধিকারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সৌদি হামলায় আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই : ইরানের প্রেসিডেন্ট চাঁদ দখলের দাবি ট্রাম্পের ; নিজেকে সুপারহিরো রূপে প্রকাশ ঝিনাইদহের মহেশপুরে সেবা আদর্শ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় দুই শতাধিক গাছের চারা রোপণ
এইমাত্রপাওয়াঃ

চট্টগ্রামে চারটি দলের প্রধানরা হারালেন জামানত ; সবাই মিলে ভোট পেলেন ১৩ হাজার ৮১

বশির আল-মামুন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ৩টি আসন থেকে নির্বাচন করা ৪টি রাজনৈতিক দলের প্রধানরা হারিয়েছে জামানত। এই চার রাজনৈতিক দলের প্রধানরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নানা দেনদরবার করেও আসন বাগাতে পারেননি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই চার রাজনৈতিক দলের প্রধানরা সবমিলিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৩ হাজার ৮১ ভোট।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ বা ভোটগণনা সমাপ্ত হওয়ার পর যদি দেখা যায় যে, কোনও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ থেকে কম পেয়েছেন, তাহলে তার জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।

একটি নির্বাচনি এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ কোনও প্রার্থী না পেলে প্রার্থিতার জমা দেওয়া জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। এবার নির্বাচনে প্রার্থীরা ১০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিয়েছেন। এটা বাজেয়াপ্রাপ্ত হবে চার দলের প্রধানের।
চারটি রাজনৈতিক দলের প্রধানরা হলেন- চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে লড়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী। তিনি পেয়েছেন তিন হাজার ১৫১ ভোট। একই আসনে লড়েছেন তারই আপন চাচা আরেক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি পেয়েছেন ২৩১ ভোট। অপরদিকে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে নির্বাচন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক ভিপি এবং সাবেক বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন। তিনি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরাম’র চেয়ারম্যান। তিনি ভোট পেয়েছেন এক হাজার ৪০১ ভোট। অপরদিকে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন পেয়েছেন পেয়েছেন হাজার ২৯৮ ভোট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি এ আসন থেকে আগেও নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তরিকত ফেডারেশনকে দলে বেড়ায়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে আওয়ামী লীগ এবার দলীয় লোক খাদিজাতুল আনোয়ারকে সনিকে প্রার্থী দিয়েছেন। নৌকা হারিয়ে ভোটের মাঠে অনেকটাই কোণঠাসা ছিলেন নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি এবার তরিকত ফেডারেশনের দলীয় প্রতীক ‘ফুলের মালা’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনের দুই দিন আগে ৪ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

এদিকে, একই আসনে ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে লড়েছেন তারই ভাতিজা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী। তিনিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে ভিড়ে আসন বাগাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নিজের দলীয় প্রতীক ‘একতারা’ নিয়ে লড়েছেন সাইফুদ্দিন। এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৭ জন। ভোট পড়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৫টি। ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার পেয়েছেন এক লাখ ৬৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরমুজ প্রতীকের হোসাইন মো. আবু তৈয়ব পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৬৬ ভোট।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরাম’র চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন। তার রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত না হওয়ায় তৃণমূল বিএনপি থেকে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করেন। আসনটি আওয়ামী লীগ এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ছেড়ে দিয়েছে। এ আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৫ হাজার ৭১৩ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী আট প্রার্থী ভোট পেয়েছে ৯৮ হাজার ১০৭টি। এ আসনে জয়ী লাঙ্গল প্রতীকের আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পেয়েছেন ৫০ হাজার ৯৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেটলি প্রতীকের মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২৫১ ভোট।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন। তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলে ভিড়ে বাগাতে চেয়েছিলেন জোটগত আসন। এম এ মতিন দেখাও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। এরপরও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টকে জোটে ভেড়ায়নি আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রতীক মোমবাতি নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ২৯ হাজার ৪২৮ ভোট। মোট ৯ প্রার্থীর প্রতীকে ভোট পড়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৭৮। আসনটিতে জয়ী নৌকার প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৩১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৩৫ হাজার ২৪০ ভোট।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরাম এর চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনে ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। এ কারণে আমিও কম ভোট পেয়েছি।’

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন নির্বাচনের দিন দুপুর ২টায় পটিয়ায় প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ৮৫টি ভোট কেন্দ্রে প্রভাবিত হয়েছে।’ তিনি পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছেন।

আজকের বাংলা তারিখ

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


Our Like Page