অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে হলুদ জাতের মাল্টা ও কমলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা। স্বাদে-গন্ধে অনন্য হওয়ায় ভোক্তাদের নজর কাড়ছে এই হলুদ মাল্টা ও কমলা। এসব কারণে জীবননগরে বিভিন্ন ফলের আবাদ বেড়েই চলেছে।
জেলায় ফলের রাজধানী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে জীবননগর। আর এই ফল বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় করছে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা। এখান থেকে ফলের চারা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হচ্ছে।
এই মাল্টা ও কমলাসহ নানান ফল চাষ করে জেলার অনেক বেকার তরুণ আজ স্বাবলম্বী হয়েছে।
এখানে পেয়ারা, আঙুর, মাল্টা, ড্রাগন, আনার, রকমেলনসহ বিভিন্ন জাতের ফল চাষে ইতিমধ্যে সফলতা দেখিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এবার হলুদ মাল্টা ও কমলা চাষে সফলতা পেয়েছেন জীবননগর উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জীবননগর উপজেলায় এ বছর ৩৩০ হেক্টর জমিতে কমলা ও মাল্টার আবাদ হয়েছে। সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। বিশ্বের সর্বমোট উৎপাদিত সাইট্রাস ফসলের দুই তৃতীয়াংশ হলো মাল্টা। ভিয়েতনাম, উত্তর পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ চীন মাল্টার আদি উৎপত্তি স্থল। তবে বর্তমানে এই ফলটি বিশ্বের উষ্ণ ও অব-উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় বেশি চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে এই ফলটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং দিন দিন এর চাষ বেড়ে চলেছে। এখানকার কৃষকরা মাল্টা চাষ করে সফল হচ্ছেন। এই এলাকার মাল্টা মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে। জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া, কেডিকে, বাঁকা, উথলী ও রায়পুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মাল্টার চাষ হয়েছে।
মানিকপুর গ্রামের উদ্যোক্তা সজলের হলুদ মাল্টা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন দল বেঁধে অসংখ্য দর্শনার্থী ছুটে আসছেন এই বাগানে। হলুদ মাল্টা চাষে সজলের এই সাফল্য তাদেরও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
বিসমিল্লাহ নার্সারী ও ফলের বাগানের ম্যানেজার শৈশব আহমেদ বাসসকে বলেন, দেশি ও বিদেশি ১ হাজার ৩শ রকমের ফলের গাছ আছে আমাদের বাগানে। প্রজেক্ট আকারে ১৪০ বিঘা জমিতে ফলের বাগান রয়েছে।
উপজেলার এইসব ফলের বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, আমাদের এলাকায় যে এমন মাল্টা হয় এটা কল্পনাই করা যায় না। এসব বাগান দেখে আমরা খুবই আনন্দিত এবং বাগানের মাল্টা খেতেও সুস্বাদু মিষ্টি। এই বাগান দেখে খুবই ভালো লাগছে।
কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ বলেন, এক বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টার চারা লাগানো যায়। ফল আসা পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়। আড়াই বছর বয়সে ফল ধরা শুরু হয়। আর তিন থেকে চার বছরে পুরোপুরি ফলন আসে। এক বিঘা জমি থেকে বছরে পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মাল্টা।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ভৌগলিক কারণে জীবননগরে পুষ্টিকর এ বিদেশি ফল মাল্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। জীবননগরে চলতি মৌসুমে ৩৩০ হেক্টর জমিতে মাল্টা ও কমলা চাষ করা হয়েছে। আগামিতে উপজেলায় মাল্টা চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ব্যাপকভাবে মাল্টা উৎপাদন করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দেশে পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।