স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পদ্মপুকুর মৌজায় পৈতৃক ও রেকর্ডীয় জমি দখলের অপচেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে ডিক্রিপ্রাপ্ত পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
৩ অক্টোবর শনিবার পদ্মপুকুর এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে ডিক্রিপ্রাপ্ত ভূমির প্রকৃত মালিকেরা এ সংক্রান্ত আইনি কাগজপত্র ও নথি উন্মোচন করেন।
পারিবারিক ও আইনি নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর উপজেলার ২৮ নং পদ্মপুকুর মৌজায় অবস্থিত সিএস ৯৯ এবং এসএ ৪৫ নং খতিয়ানভুক্ত পৈতৃক জমি আরএস জরিপের সময় ভুলবশত বিবাদী আজিজুর রহমান, ইসলাম বিশ্বাস, আব্দুল খালেক ও ফজর আলী গংদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।
পরবর্তীতে রেকর্ড সংশোধনের জন্য ঝিনাইদহ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (মামলা নং ১৬৬/২০১৬) দায়ের করেন জুড়ন বিশ্বাসের ওয়ারেশ আব্দুল আজিজ, আব্দুল সাত্তার, আঃ রাজ্জাক, রায়হান উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলাম।
শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল বিবাদীদের নামে প্রস্তুতকৃত ভুল আরএস খতিয়ান বাতিল করে বাদীপক্ষের পক্ষে একতরফা ডিক্রি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং ৫৯৫৪/২০২৫) দায়ের করলেও হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের আদেশ বহাল রাখেন।
এ ছাড়া মহেশপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের দেওয়ানী মামলা (নং ৪৬৮/২০২৩)-এর রায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে বিবাদীগণের বিপরীতে বাদীপক্ষের নামে নামপত্তন (নামজারি) সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক নির্দেশ প্রদান করা হয়।
আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে বর্তমানে সরকারি রেকর্ডপত্র সংশোধন করে ডিসিআর ও খারিজ খতিয়ান ২০২৬-১০০০০১৩ গ্রহণ করে সরকারি খাজনা পরিশোধের দাখিলা সম্পন্ন করে বাদীপক্ষ ও তাদের ওয়ারেশ সোহেল রানা গং শান্তিপূর্ণভাবে জমিতে স্বত্বাধিকারী হয়ে ভোগদখল করে আসছেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, আদালতে বারবার পরাজিত হয়ে এবং আইনি কোনো ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও বিবাদী চক্রটি অবৈধ উপায়ে জমি দখলের পাঁচতারা করছে। শুধু তা-ই নয়, মূল ঘটনা আড়াল করতে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
এরই প্রতিবাদে পদ্মপুকুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান এবং বিবাদী চক্রের এই জালিয়াতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভুক্তভোগী মোঃ সোহেল রানা ও ফারুক আজমের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২৮ নম্বর পদ্মপুকুর মৌজার সিএস ৯৯ নম্বর খতিয়ান থেকে ওয়ারিশ সূত্রে জুড়ন বিশ্বাস এবং পরবর্তীতে এসএ ৪৫ নম্বর খতিয়ানে আব্দুল আজিজ বিশ্বাস স্বত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে আদালতের ১৬৬/১৬ নম্বর বাটোয়ারা মামলার রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে ৪৩৯ ও ৪৪০ নম্বর খারিজ খতিয়ান খোলা হয় এবং সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করা হয়।
বক্তারা আরও জানান, ডিক্রিপ্রাপ্ত নামজারিকৃত মালিকদের কাছ থেকে বৈধ ক্রয় দলিলের মাধ্যমে সোহেল রানা ও ফারুক আজম জমি প্রাপ্ত হয়ে নিজ নামে নামজারি সম্পন্ন করেন। তাদের দাবি, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ঝিনাইদহের ২৪৪/১৬ নম্বর মামলায় তাদের পক্ষে একতরফা রায় প্রদান করা হয় এবং আরএস রেকর্ড সংশোধন করে তাদের নামে জমি রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তারা বলেন, আদালতের রায় ও আইনগত নির্দেশনার ভিত্তিতে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল করে আসছেন।
মানববন্ধনে ফারুক আজম বলেন, তাদের কাছে সিএস, এসএ, আদালতের ডিক্রি, ক্রয় দলিল, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি এবং হালনাগাদ খাজনা-দাখিলাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এসব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি মহল জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে জমি দখলের অপচেষ্টা ও মিথ্যা অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের জমি সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।