অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ফ্রান্সে গত মঙ্গলবার তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের নিহতের ঘটনার পর উত্তাল ফ্রান্স। এ নিয়ে দেশটিতে দ্বিতীয় রাতের মতো তুমুল বিক্ষোভ চলছে। পুলিশ ইতিমধ্যে অন্তত ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কিশোরকে হত্যার ঘটনাকে দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। ম্যাক্রো বলেছেন, এ ঘটনাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।
ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, প্যারিসের রাস্তায় গত মঙ্গলবার সকালে হলুদ মার্সিডিজ চালাচ্ছিলেন ১৭ বছরের নাহেল এম। জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্র্যাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে পুলিশ তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে মারে। এরপরেই বুধবার শুরু হয় প্রতিবাদ।
প্যারিসের শহরতলিতে রাস্তায় নেমে মানুষ নোংরা ফেলার বিনগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একটি জায়গায় বাসেও আগুন লাগানো হয়। একটি শহরে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ গেলে তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু প্যারিস নয় এ বিক্ষোভ ফ্রান্সের অনেকগুলো শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার প্যারিসের আশেপাশের শহরতলিতে অন্তত দুই হাজার দাঙ্গা পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশটির পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছে, উত্তরের শহর লিলে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে টুলুসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে। এ ছাড়া প্যারিসের দক্ষিণে অ্যামিয়েন্স, ডিজন এবং এসোনের প্রশাসনিক বিভাগেও গোলযোগ দেখা গেছে।
বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৪ জন পুলিশকর্মীর আহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
দেশটির পুলিশ প্রথমে এ ঘটনা সম্পর্কে জানায়, ১৭ বছর বয়সী নাহেল এম পুলিশের এক অফিসারকে লক্ষ্য করে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিল। তাকে থামানোর জন্য গুলি চালানো হয়। তবে পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে প্রচুর ভিডিও পোস্ট করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেমে আছে। দুই পুলিশকর্মী ওই গাড়ির পাশে। একজন রিভলভার তাক করে আছে। একটা গলার আওয়াজ ভেসে আসে, মাথায় গুলি করব। এরপর গাড়ি নিয়ে নাহেল পালাতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে তার মৃত্যু হয়।