অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে রুহুল কুদ্দুস কাজল স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে থাকবেন। রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বিএনপির আদর্শ ধারণ করি, তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের সময় কোনো দলীয় বিষয় বিবেচনা করা হবে না। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। আমি আমার নিরপেক্ষ অবস্থানের জায়গায় অটল থাকব এবং কোনো ধরনের তদবির বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
আইনাঙ্গনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি চাই এমন একটি বিচারব্যবস্থা, যেখানে কারও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে না। একই সঙ্গে তরুণ আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করে তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করা আমার অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।’
অবাধ তথ্যপ্রবাহের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘অবাধ তথ্যপ্রবাহে আমি বিশ্বাসী, তবে অপতথ্য বা এআই ব্যবহার করে ছড়ানো ভুল তথ্যের প্রবাহ বন্ধ করতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান তিনি। রুহুল কুদ্দুস কাজল আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধান বিচারপতি তার এই অনুরোধটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।
স্মৃতিচারণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমার শিক্ষাজীবন শেষে বেগম খালেদা জিয়া আমাকে কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এর জন্য আমি তার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’