October 6, 2026, 5:41 pm
শিরোনামঃ
যশোরের শার্শায় গাছের সাথে পিকআপের ধাক্কায় হেলপার নিহত যশোরের শার্শায় পৃথকভাবে মাদক বিরোধী অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপ ইয়াবা ও গাঁজাসহ ২ যুবক আটক মাগুরায় কাশিনাথপুর গ্রামে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী স্বামী-স্ত্রী সহ ৩ জন আটক  যশোরে মামলার আসামি রকি ইয়াবাসহ আটক বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী কোনো সরকারই বাজারে সিন্ডিকেট চায় না : খাদ্যমন্ত্রী সিইসির কাছে ইজতেমার সময় গাজীপুরের স্থানীয় নির্বাচন না করার আবেদন করলো তাবলীগ জামাত রংপুরে ধানক্ষেত থেকে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার বরিশালে আদালত ভবন থেকে লাফ দিয়ে কলেজ ক্যাশিয়ারের আত্মহত্যা
এইমাত্রপাওয়াঃ

দেশের ইতিহাসে সলিড কোকেনের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দেশের ইতিহাসে সলিড কোকেনের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের মূল্য প্রাায় ১০০ কোটি টাকা। আফ্রিকার দেশ মালাবি-এর এক নারী ৮ কেজি ৩০০ গ্রামের এই কোকেনের চালানটি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

বুধবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নোমথেনডাজো তাওয়েরা সোকো (৩৫) নামে মালাবির ওই নারীকে কোকেনের এই চালানসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসি জানায়, কোকেনের এই চালানটি আফ্রিকার দেশ মালাবি অথবা ইথিওপিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল চালানটি পাচার করার জন্য। কারণ এই পরিমাণ কোকেনের চাহিদা বাংলাদেশে নেই।

আজ রাজধানীর তেজগাঁও-এ অবস্থিত ডিএনসির উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) তানভীর মমতাজ।

তানভীর মমতাজ বলেন, কোকেন চোরাচালানের আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের দেশি ও বিদেশি সক্রিয় কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। তারা কোকেনের একটি বৃহৎ চালান আফ্রিকা থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে একজন আফ্রিকান নাগরিকের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে আসছে- এমন তথ্য পাই আমরা। এরপর আমরা নজরদারি বাড়াই। বুধবার এপিবিএনকে সঙ্গে নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নং টার্মিনালের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করে। ফ্লাইটটি থেকে নামা সকল বিদেশি যাত্রীকে আমরা ফলো করি।

এর মধ্যে দেখা যায় নোমথেনডাজো তাওয়েরা সোকো নামে এক বিদেশি নারী বিমানবন্দরের নিচ তলায় ভিসা অন অ্যারাইভাল ডেস্কে দীর্ঘক্ষণ ধরে অবস্থান করছেন। তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন লাগেজে অবৈধ মাদকদ্রব্য কোকেন আছে। এরপর লাগেজের ভেতরে বিশেষভাবে রক্ষিত ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, নোমথেনডাজো তাওয়েরা সোকো আফ্রিকান দেশ মালাবি-এর নাগরিক। তিনি প্রথমে মালাবি থেকে ইথিওপিয়া যান। পরে তিনি ইথিওপিয়া থেকে যান কাতারের দোহায়। দোহা থেকে কাতারের এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তার বাংলাদেশ থেকে আবারও মালাবি যাওয়ার কথা ছিল। কোকেনের এই চালানটি বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনো দেশে চলে যেতো। আমাদের ধারণা তাওয়েরা সোকো কোকেনের এই চালানটি মালাবি থেকে নয়তো ইথিওপিয়া থেকে সংগ্রহ করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সোকো জানায়, ২০২৩ সালে তিনি বাংলাদেশে একবার এসেছিলেন। গার্মেন্টস ব্যবসার কথা বলে এসেছিলেন তিনি। এবারও তিনি বাংলাদেশের একটি গার্মেন্টসের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আসেন। অন এ্যারাইভাল ভিসা নেওয়ার জন্য তিনি তার পরিচয় লুকিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসার নাম করে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। সোকো পেশায় একজন নার্স। তিনি মূলত কোকেনের এই চালানের বহনকারী। বাংলাদেশে তিনি আরেক বিদেশি নাগরিকের কাছে এই চালান পৌঁছে দিয়ে নিজ দেশে চলে যাওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশে সোকো কার কাছে কোকেন হস্তান্তর করতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের কাছে এই কোকেন যাওয়ার কথা ছিল। আমরা একজন বিদেশিকে সন্দেহ করছি। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা আশা করি চক্রটিকে ধরতে পারব।

২০২৩ সালে সোকো বাংলাদেশে কোকেনের চালান নিয়ে এসেছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার নাম করে এসেছিলেন। তিনি আসলে কেন এসেছিলেন সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি।

কোকেনের এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কেউ জড়িত আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোকেনের চালানের সঙ্গে দেশি এবং বিদেশি চক্র জড়িত আছে। এই চক্রটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।



Our Like Page