July 22, 2026, 7:34 pm
শিরোনামঃ
যশোরের বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা যশোরে ২টি স্বর্ণবারসহ ১ পাচারকারী আটক বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো জামায়াত ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল ময়মনসিংহে গ্যাস না পেয়ে মহাসড়কে অবরোধ করলো সিএনজি চালকেরা খুলনায় তালাবদ্ধ ঘরে কাঁথা-তোশকে প্যাঁচানো অবস্থায় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার ভারতের এবারের আন্দোলন নিয়ে আতঙ্কিত বিজেপি চীন সীমান্তে শান্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এইমাত্রপাওয়াঃ

দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর-লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম-নীলফামারী-গাইবান্ধার পানিবন্দী লাখো মানুষ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। এ অবস্থায় তিস্তাপাড়ে এখন চলছে বোবা কান্না। সরকারিভাবে যে পরিমাণ সাহায্য করা হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় সামান্য। তাই অনাহারে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের।

তবে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ত্রাণের কোনো অভাব নেই। প্রত্যেক বানভাসি মানুষই ত্রাণের আওতায় আসবে।

জানা গেছে, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে রোববার রাতে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। রোববার মধ্যরাতে ব্যারেজ রক্ষায় ফ্লাড বাইপাস কেটে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তা অববাহিকায় জারি করা হয় রেড অ্যালার্ট।

তবে পানি আবারও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, ভারতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গজলডোবা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে উত্তরের পাঁচ জেলার লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১২ মিটার, যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২.১৫ মিটার) ৩ সেন্টিমিটার নিচে। গেল রাতে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, টানা তিনদিনের ভারী বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। রোববার সকাল থেকে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৮০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। সন্ধ্যা ৬ টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় যা ক্রমেই বেড়ে গিয়ে রাতে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তাপাড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

অতিরিক্ত পানির চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ফ্লাড বাইপাস কেটে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। নির্ঘুম রাত কাটে তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষের। লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার কিছু অংশ বন্যার কবলে পড়ে।

বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় আছে তিস্তা অববাহিকার ৮ উপজেলার তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ। পানির চাপে ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। বিশেষ করে আদিতমারী উপজেলার সোলেডি স্পার বাঁধ-২ এর ব্রিজ অংশের নিচে সুরঙ্গ হয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাঁধটি ধসে যাওয়ারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু রাস্তা-ঘাট, সড়ক ডুবে গেছে।

রংপুরের গংগাচড়া তিস্তা দ্বিতীয় সেতুর সেতু রক্ষা বাঁধের আরও ২০ মিটার ধসে যাওয়ায় হুমকিতে পড়েছে সেতুটি।

হাতীবান্ধার দোয়ানী-গড্ডিমারী সড়ক উপচে নতুন নতুন এলাকায় ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে পানিবন্দী এলাকার সংখ্যা। ভোগান্তিতে পড়েছে পানিবন্দী পরিবারগুলো। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিতরা। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। গবাদি পশুপাখি নিয়ে বেশ বিপদে পড়েছেন খামারিরা। কেউ কেউ এসব পশুকে পাশের সড়কে বা উঁচু এলাকায় তাবুর নিচে রেখেছেন। উঁচু স্থানে মাচা বানিয়ে চলছে রান্না।

টিউবওয়েল-টয়লেট ডুবে যাওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন এসব এলাকার নারীরা। ডুবে গেছে মৎস্য খামার, আমন ধানসহ নানান জাতের সবজির খেত। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ।

গংগাচড়ার বাগেরহাটের পানিবন্দী আছিয়া বেগম জানান, ঘরে বাইরে পানি, চুলায় পানি, রান্না করা হয়নি, ছেলে-মেয়ে নিয়ে উপোস রয়েছি।

চর ইচলির বৃদ্ধ জয়নাল জানান, আমরা ত্রাণ চাই না, ঘরে পানি উঠলেও নদী খনন চাই।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বেড়ে রাতে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হলেও আজ সকাল থেকে পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। বৃষ্টির পানি থাকায় বন্যার পানি নেমে যেতে একটু সময় লাগছে। তবে উজানের চাপ কমে যাওয়ায় রাতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

আজকের বাংলা তারিখ

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page