August 4, 2026, 12:28 am
শিরোনামঃ
এইমাত্রপাওয়াঃ

পরীক্ষার ফি দিতে দেরি করায় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিলেন প্রধান শিক্ষক 

স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বলিভদ্রপুরে অবস্থিত বিআরএকেএস (বলিভদ্রপুর-রামচন্দ্রপুর-আজমপুর-কাশিপুর-সৈয়দপুর) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফি দিতে দেরি করায় হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থী রাফিন হোসেন আজমপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রপুর গ্রামের চঞ্চল হোসেনের ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীর পরিবার।

শিক্ষার্থী ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায় রাফিন। পরীক্ষা চলাকালীন সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন তার কাছে পরীক্ষার ফি চান। তখন রাফিন পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে কয়েক দিন পর ফি পরিশোধের অনুরোধ জানায়। কিন্তু শিক্ষিকা তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

রাফিনের ভাষ্য, সে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের কাছে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সাফ জানিয়ে দেন, ফি ছাড়া কোনোভাবেই পরীক্ষা দেওয়া যাবে না এবং তাকে অবিলম্বে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বলেন। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা না দিয়েই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে যায় রাফিন।

রাফিনের বাবা চঞ্চল হোসেন জানান, আমরা মূলত আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক ঝামেলার কারণে ফি দিতে একটু দেরি হয়েছিল। কয়েক দিন পর দেব সে কথা সহকারী শিক্ষিকাকেও জানানো হয়েছিল। তার পরও আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হলো। ছেলেটা অভিমানে দুই দিন ধরে কিছু খাচ্ছে না।

স্থানীয় কামাল হোসেন ও এমদাদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফি দিতে দেরি হওয়ায় পরীক্ষা দিতে না দিয়ে অমানবিক কাজ করেছে। তার কাছ থেকে এহেন কাজ আমরা ও সমাজ কখনই আশা করিনি। তারা আরও বলেন পারিবারিক সমস্যার কারণে পরীক্ষার ফি দিতে দেরি হতেই পার তার জন্য কি একজন পরীক্ষর্থীকে হল থেকে বের করে দিতে হবে।

এই অমানবিক আচরণের বিষয়ে জানতে বি আর এ কে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে বা কথা বলতে রাজি হননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু সাইদ খান বলেন, পরীক্ষার ফি দিতে দেরি করায় প্রধান শিক্ষক একজন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা না দিতে দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়াটা দিক হয়নি। তিনি আরও বলেন বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি মাত্রই অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে দ্রত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আজকের বাংলা তারিখ

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  


Our Like Page