অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও বিজেপি। অন্যদিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ করে আজ (শুক্রবার) রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
অধীর বাবু আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাকে ‘খোকা বাবু’ উল্লেখ করে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালিত হবে ‘খোকা বাবু’র অফিস থেকে। নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে নির্বাচন পরিচালিত হবে না। নির্বাচন পরিচালনা হবে ‘খোকা বাবু’র অফিস থেকে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসবে, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল দলের হয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন পরিচালনা করবেন নির্বাচন কমিশনার। আমরা এর বিরোধিতা করে বলতে চাচ্ছি, যদি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন যে পশ্চিমবঙ্গে মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে, তাহলে সেজন্য সময়ের ব্যবস্থা করুন।’
এদিকে, আজ শুক্রবার কংগ্রেসের আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী এবং বিজেপির আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে কোলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কংগ্রেস এবং বিজেপি‘র পক্ষ থেকে জনস্বার্থ মামলা করতে চেয়ে আবেদন জানানো হয়। সেই অনুমতি দেয় আদালত। দ্রুত শুনানির আবেদনও মঞ্জুর করেন প্রধান বিচারপতি।
আজ দুপুরে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সমন্বিত বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। পঞ্চায়েত ভোটে প্রায় ৭৫ হাজার আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য ৫ দিন সময় কম বলে মনে করছে কোলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে মনোনয়ন থেকে ভোটগ্রহণ পুরো সময়টি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে করা হয়েছে। মনোনয়নে সময় খুবই কম দেওয়া হয়েছে। ভোটের তফসিল পুনর্বিবেচনা করা উচিত। মহকুমা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক বা কমিশনের অফিসে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কী না দেখতে হবে।’ হাই কোর্টের নির্দেশ, এই বিষয়গুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে রাজ্য সরকার। প্রসঙ্গত, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি সব বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য আবেদনকারীরা আদালতে আর্জি জানিয়েছেন।
আজ ৯ জুন থেকে ১৫ই জুন পর্যন্ত রোজ মনোনয়ন জমা করা যাবে। সকাল ১১ থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত জমা করা যাবে মনোনয়নপত্র। এত অল্প সময়ে কী করে মনোনয়ন জমা সম্ভব? এই প্রশ্নসহ বিভিন্ন প্রশ্নে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী কংগ্রেস ও বিজেপি।
প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৮ জুলাই, শনিবার। মনোনয়নপত্র জমা শুরু হয়েছে আজ ৯ জুন থেকেই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১৫ জুন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার জন্য ২০ জুন পর্যন্ত সময় পাবেন পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রার্থীরা।
এদিকে, আজ মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত গোলযোগ ও সহিংসতার খবর পেওয়া গেছে। মনোনয়ন জমার আগে আজ (শুক্রবার) সর্বদলীয় সভা হয় মুর্শিদাবাদের ভরতপুর-২ নম্বর ব্লক অফিসে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি, নিজেদের অনুগামীদের নিয়ে এতে উপস্থিত ছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ও ভরতপুর-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান। জেলার রাজনীতিতে যারা পরস্পরের বিরোধী বলেই পরিচিত। বৈঠক শেষে আচমকা তাদের অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। বেধড়ক মারধরে আহত হন দু’পক্ষের ১৫ জন।
অন্যদিকে, বাঁকুড়ার কোতুলপুরে দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে মনোনয়নের জন্য বিডিও অফিসে যান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক। তার অভিযোগ, বেরোনোর সময় তার গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে তৃণমূল আশ্রিত দুর্বৃত্তরা।