অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশের নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা প্রসারে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
বুধবার (১ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির গণকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী লিম সাং উ এই আগ্রহের কথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ খুব শিগগিরই একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, যা বর্তমান মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার গণ্ডি ছাড়িয়ে সেবা খাত, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দক্ষিণ কোরিয়া মনে করে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে এই চুক্তির বাস্তবায়ন দুই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে সিউলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি গত ৫০ বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়ন, বস্ত্র শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের বিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
Thumbnail Toshif Hasan (3)
রাষ্ট্রদূত শাতিল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে দেশে সামাজিক সম্প্রীতি, নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা, সুশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে পাশে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। নবনির্বাচিত সরকারের এই উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটলে দুই দেশই লাভবান হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
স্বাধীনতা দিবসের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ও কোরিয়ান শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি, গান ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। আমন্ত্রিত অতিথিদের বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি ও কোরিয়ান খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
এই আয়োজন কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ককেও আরও প্রগাঢ় করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এই ইতিবাচক বার্তা বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।