January 15, 2026, 1:04 am
শিরোনামঃ
মাগুরায় ডেফুলিয়া মাঠে মা মৌ খামার পরিদর্শন করলেন ঢাকা পরিকল্পনা কমিশন যুগ্মপ্রধান ফেরদৌসী আখতার  মাগুরায় তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বারি সরিষা ১৪ ফসলের জাত নিয়ে মাঠ দিবস ও কারিগরি সেশন আলোচনা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ বিএনসিসি ক‍্যাডেটরা সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করলে জাতি উপকৃত হবে : সেনাপ্রধান অ্যান্টিবায়োটিক যত্রতত্র ব্যবহারে ক্যান্সারের চেয়েও ভয়ঙ্কর সুপারবাগের ঝুঁকি বাড়ছে : ডা. হাসান হাফিজুর দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইউএনও ফেরদৌস আরা মারা গেছেন খাগড়াছড়িতে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু বরিশালে বিপুল পরিমাণ জাল নোটসহ ৪জন আটক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় পশ্চিম তীরে বাস্তুচ্যুত বেদুইন সম্প্রদায়
এইমাত্রপাওয়াঃ

বেশ কয়েকটি দেশের ওপর পুনরায় শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আমূল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর পুনরায় শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই পদক্ষেপকে তিনি মার্কিন উৎপাদন শিল্পের সুরক্ষা ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ সংবাদ জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব শুল্ক কার্যকর হবে এক সপ্তাহের মধ্যে। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল শুক্রবার থেকেই এটি চালু হবে।

ট্রাম্পের মতে, এই শুল্ক ব্যবস্থা মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে এবং বিদেশি আমদানির প্রবাহ কমিয়ে  দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করবে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অন্যান্য নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে।

নতুন নির্বাহী আদেশে প্রায় ৭০টি দেশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে এপ্রিল মাসে ঘোষিত ১০ শতাংশ হার থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে।

দেশভেদে শুল্ক বৃদ্ধির এই হার ভিন্ন ভিন্ন হলেও, বেশ কয়েকটি দেশের জন্য তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, সুইজারল্যান্ডের জন্য শুল্ক হার বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের জন্য শুল্ক হার কমে ১৯ শতাংশে এবং তাইওয়ানের জন্য এই হার কমে হয়েছে ২০ শতাংশ।

যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এই হার আরও কমানোর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

কানাডিয়ান পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে।

তবে এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। কানাডা ও মেক্সিকোর জন্য আলাদা শুল্ক ব্যবস্থা প্রযোজ্য থাকবে এবং উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির  আওতায় কিছু আমদানির ওপর ছাড় থাকবে।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাণিজ্য বিশ্লেষক ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এই নির্বাহী আদেশ এবং গত কয়েক মাসে স্বাক্ষরিত সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শাসনকে চ্যালেঞ্জ করেছে।’

বর্ধিত শুল্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও ওয়াশিংটন দু’বার এ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে নেয়। এ সময়ে তীব্র আলোচনা, নতুন শুল্ক ঘোষণা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, মেক্সিকান পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশেই থাকছে এবং পূর্বঘোষিত বৃদ্ধি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

ক্লাউদিয়া শেইনবামের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত হয়।

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বাণিজ্যে ‘সংরক্ষণবাদী’ নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘শুল্ক ছাড়া আমাদের অর্থনীতির টিকে থাকার কিংবা সফলতার কোনো সুযোগ নেই।’

তবে তার এই নীতি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

একটি নিম্ন আদালত ইতোমধ্যে মত দিয়েছে যে, ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। এখন বিষয়টি মার্কিন আপিল আদালতে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

ট্রাম্প তার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, শুল্কের কারণে রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন যে, এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা ও উৎপাদক— দুই পক্ষেই নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুল্ক বৃদ্ধি এড়াতে পেরেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে- ভিয়েতনাম, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

যুক্তরাজ্যও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যদিও তাদের ওপর শুরুতে উচ্চ ‘পাল্টা’ শুল্ক আরোপের লক্ষ্য ছিল না।

কানাডার ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, অন্য দেশের মাধ্যমে কানাডা থেকে পণ্য ট্রান্সশিপ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণার পর ওয়াশিংটন-অটোয়া বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে।

নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় এপ্রিল মাসে তালিকাভুক্ত না থাকা দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন- ইকুয়েডর, ঘানা ও আইসল্যান্ডের ওপর এখন ১৫ শতাংশ হার প্রযোজ্য হবে।

চীন যদিও এই ঘোষণার মধ্যে ছিল না,  তার পরেও তাদের ওপর শুল্ক সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত আসছে ১২ আগস্টে। তখন দ্বিপাক্ষিক শুল্ক হারে আবারও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোপূর্বেই পাল্টা শুল্ক আরোপ করে একাধিকবার শতকরা তিন অঙ্কে পৌঁছে যায়, তবে বর্তমানে উভয় দেশ এই হার সাময়িকভাবে কমিয়ে একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সেটি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

 

আজকের বাংলা তারিখ

January ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page