স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামে আদালতের রায়ে চূড়ান্তভাবে ডিক্রিপ্রাপ্ত পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিবাদীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ডিক্রিপ্রাপ্ত ভূমির প্রকৃত মালিকেরা এ সংক্রান্ত আইনি কাগজপত্র ও নথি উন্মোচন করেন।
পারিবারিক ও আইনি নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২৮ নং পদ্মপুকুর মৌজায় অবস্থিত সিএস ৯৯ এবং এসএ ৪৫ নং খতিয়ানভুক্ত পৈতৃক জমি আরএস জরিপের সময় ভুলবশত বিবাদী আজিজুর রহমান, ইসলাম বিশ্বাস, আব্দুল খালেক ও ফজর আলী গংদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে রেকর্ড সংশোধনের জন্য জজ আদালতের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (মামলা নং ১৬৬/২০১৬) দায়ের করেন জুড়ন বিশ্বাসের ওয়ারেশ আব্দুল আজিজ, আব্দুল সাত্তার, আঃ রাজ্জাক, রায়হান উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলাম। শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল বিবাদীদের নামে প্রস্তুতকৃত ভুল আরএস খতিয়ান বাতিল করে বাদীপক্ষের পক্ষে একতরফা ডিক্রি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং ৫৯৫৪/২০২৫) দায়ের করলেও হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। এ ছাড়া মহেশপুর সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানী মামলা (নং ৪৬৮/২০২৩)-এর রায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে বিবাদীগণের বিপরীতে বাদীপক্ষের নামে নামপত্তন (নামজারি) সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক নির্দেশ প্রদান করা হয়। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে বর্তমানে সরকারি রেকর্ডপত্র সংশোধন করে ডিচিআর (DCR), নিজস্ব খতিয়ান (২০২৬-১০০০০১৩) এবং সরকারি খাজনা পরিশোধের দাখিলা সম্পন্ন করে বাদীপক্ষ ও তাদের ওয়ারেশ গণ (সোহেল রানা গং) শান্তিপূর্ণভাবে জমিতে স্বত্বাধিকারী হয়ে ভোগদখল করে আসছেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, আদালতে বারবার পরাজিত হয়ে এবং আইনি কোনো ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও বিবাদী চক্রটি অবৈধ উপায়ে জমি দখলের পাঁচতারা করছে। শুধু তা-ই নয়, মূল ঘটনা আড়াল করতে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদে পদ্মপুকুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান এবং বিবাদী চক্রের এই জালিয়াতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।