ফারুক আহমেদ, মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসা কে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি, বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর মাধবপুর পশ্চিম মাঠে লিচু বাগানে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে হেকমত শিকদারের পুত্র মাহাবুরের সঙ্গে জুয়াড়ী খেলোয়াড়দের তর্ক-বিতর্ক হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কয়েকজন জুয়াড়ী খেলোয়াড় মাহাবুরকে মারধরের উদ্দেশ্যে মাধবপুর মোড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে মাহাবুরকে না পেয়ে তার বাবা হেকমত শিকদারকে মারধর করে রক্তাক্ত হাড়ভাঙ্গা জখম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মাগুরা জেলা কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরমান শিকদার হাবিব বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর মাগুরা সদর জিআর ৪৫৪/২৬ মামলা দায়ের হয় পেনাল কোড ৩২৪, ৩২৫, ৩০৭, ৫০৬ এই মামলার খবর আসামী পক্ষ শুনতে পেয়ে ঐ দিনে বিকাল সাড়ে ৩ টার সময় ছোনপুর গ্রামের নুর ইসলাম, আতিয়ার ও মাধবপুর গ্রামের বিপ্লব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে জোটবদ্ধ হয়ে ৪০-৫০ জন লোকজন হেকমত শিকদারের বাড়িতে অর্তকিত ভাবে হামলা করে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা। হামলা করে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে সেই ঘরে আমার ৬০ মন পাট ছিলো পুড়ে গেছে, দুইটা ঘর ভাংচুর করে, চার ভরি স্বর্ণ অলংকার লুট করে নিয়ে গেছে, পানির একটা মোটর নিয়ে গেছে, নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচার চাই।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় এ সময় জীবন রক্ষার জন্য বাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে হামলাকারীরা বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় মাধবপুরের মান্নানের ছেলে মাসুমকেও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায় বলে পুলিশ ৩ টি গরু উদ্ধার করে ঘটনার পরদিন। ঘটনার কিছু অংশের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে। তবে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হেকমত শিকদারের তিনটি গরু উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
আসামি পক্ষের কারোর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।