অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রাতের আঁধারে ঘরের মধ্যে ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে পেট্রল নিক্ষেপ করে শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও তাদের শিশুকন্যাকে অগ্নিদগ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের ফুটবল মাঠের পাশের একটি বাড়িতে।
নির্যাতনের কারণে বোন সুফিয়া খাতুনকে স্বামীর বাড়িতে না পাঠানোয় শ্যালক ও ভগ্নিপতির মধ্যে বিরোধের জেরে পেট্রল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ভগ্নিপতি সবুজ হোসেন যশোরের শার্শা উপজেলার নারায়ণপুর পোড়াবাড়ি এলাকার আব্দুল বারীর ছেলে। তিনি পেশায় আফিল জুট মিলের শ্রমিক।
এ ঘটনায় সবুজ হোসেনকে রাতে চন্দনপুর গ্রামের আশ্রয়দানকারী আব্দুল মান্নান বিহারীর ছেলে সোহাগ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে কলারোয়া থানা পুলিশ।
চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে কাদের হোসেনের শরীরে জানালা দিয়ে কে বা কারা পেট্রোল ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে দগ্ধ হলেও দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় কেউ বের হতে পারেনি। এতে আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত ও দগ্ধ হয় কাদের হোসেন, তার স্ত্রী শারমিন ও মেয়ে ফাতেমা।
তাদের চিৎকারে আশপাশের ঘুমন্ত প্রতিবেশীরা উঠে এসে জানালার রড ও তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। পরে তাদের সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কাদের হোসেনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ‘বোনকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোকে কেন্দ্র করে আহত কাদেরের সঙ্গে তার বোনের স্বামী বেনাপোলের সবুজ হোসেনের কয়েক দিন ধরে ঝামেলা চলছিল। এমনকি মোবাইল ফোনে কাদেরকে হুমকি-ধমকিও দিতো সবুজ। বিষয়টি কাদের সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানকেও জানিয়েছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে একটি সালিস-বৈঠকের কথাও ছিল।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রতিবেশীরা ধারণা করছেন, ভগ্নিপতি সবুজ হোসেন দরজায় তালা মেরে জানালা দিয়ে পেট্রোল ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডালিম হোসেন বলেন, সোহাগ ও সবুজ পরষ্পর বন্ধু ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বোনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় সোহাগকে সঙ্গে নিয়ে চান্দুড়িয়া বাজার থেকে পেট্রল ও তালা কিনেছিল ভগ্নিপতি সবুজ।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সংবাদ পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত কাদেরের বোন সুফিয়া খাতুন (সবুজের স্ত্রী) বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে সবুজের সহযোগী সোহাগকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সবুজ হোসেনকে আটকের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কাদের হোসেনের বোন সুফিয়া খাতুন জানান, তার স্বামী সবুজ তাকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করে। এ কারণে সে স্বামীর ঘর করতে চায় না। এসব নিয়ে তাদের ঝামেলা চলছিল।
সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আল আহমেদ আল মাসুদ জানান, কাদেরের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অন্য দুজনের অবস্থাও শঙ্কামুক্ত নয়।