April 12, 2026, 11:51 am
শিরোনামঃ
সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয় : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ তথ্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী কৃষক কার্ডে যুক্ত হবে সময়োপযোগী নতুন নতুন সেবা : কৃষিমন্ত্রী ১৪ মে প্রকাশ হবে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা খুলনায় ছুরিকাঘাতে তাঁতী দল নেতা নিহত কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা  গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার করে পালানোর পর প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের অনুরোধ অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিলো মোদি যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবিতে ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা
এইমাত্রপাওয়াঃ

সুদান ভেঙ্গে আবারও নতুন দেশের উদয় হবে বলে আশা করছে ইসরাইল

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সুদানে দুই সেনা-গোষ্ঠীর মধ্যে সামরিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে জন-জীবনে দেখা দিয়েছে বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তা।

কিন্তু দেশটির সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কেবলই লাভবান হচ্ছে পশ্চিমা শক্তিগুলো ও বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিষাক্ত ক্যান্সার দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল। সম্পদ-সমৃদ্ধ সুদানই সবচেয়ে বেশি কাম্য তাদের জন্য।

১৯৬৭ সালের পর থেকে সুদান সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে ১৫টি। ১৯৬৭ সনে ৬ দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ শেষ হলে আরব নেতৃবৃন্দ সমবেত হয়েছিলেন সুদানের রাজধানী খার্তুমে। সেই সম্মেলনটি শেষ হয়েছিল ৭ দফা ইশতিহার ঘোষণার মধ্য দিয়ে।  ওই ইশতিহারে তৃতীয় দফায় বলা হয়েছিল: ইসরাইলি আগ্রাসনের সব ক্ষতি পূরণ করতে এবং আরব ভূমিগুলোকে ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে আরব সরকারগুলো আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে তাদের কার্যক্রমকে ঐক্যবদ্ধ বা সমন্বিত করবে যে ভূমিগুলো ইসরাইল দখল করে রেখেছে ৫ জুন থেকে। আর এইসব কার্যক্রম সম্পাদন করা হবে এই মূলনীতির ভিত্তিতে যে আরব সরকারগুলো ইসরাইলের সঙ্গে কোনো শান্তি প্রক্রিয়া, কোনো স্বীকৃতি ও কোনো সংলাপ প্রক্রিয়া মেনে নেবে না এবং নিজ দেশে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের প্রতি জোর সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখবে। ওই ঘোষণা ‘তিন না’ হিসেবে বিখ্যাত!

সুদানের জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল বুরহানের নেতৃত্বে দেশটির প্রেসিডেন্ট ওমর আল বাশিরকে এক সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করার দুই বছর পর ইসরাইলের এক রাজনৈতিক প্রতিনিধিদল দেশটি সফর করে। ওই সফরের প্রেক্ষাপটে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সুদানি সামরিক জান্তা। ইসরাইলি প্রতিনিধিদল সদম্ভে ঘোষণা করে যে সেই ঐতিহাসিক ‘তিন না’ বা নিষেধাজ্ঞা রূপান্তরিত হয়েছে ‘তিন হ্যাঁ’-তে! অর্থাৎ ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি, সংলাপ ও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা বৈধ!

গত দোসরা ফেব্রুয়ারিতেও ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোহেন আবারও জেনারেল বুরহান ও সুদানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে খার্তুমে সাক্ষাৎ করেছেন। বুরহান ভাবেননি যে তার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানকারী আধা-সামরিক বাহিনীর প্রধান হেমেদ্‌তিকে ইসরাইল সমর্থন দিবে। হেমেদ্‌তি ও বুরহান দু-জনই ইসরাইলকে সেবা দেয়া সত্ত্বেও ইসরাইল মনে করে হেমেদ্‌তির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে সুদানের সেনাবাহিনী ধ্বংস হয়ে যাবে। সুদানের সেনাবাহিনীতে ইসলামপন্থী ও ইসরাইল বিরোধীরা থাকায় এই বাহিনীর ধ্বংস হয়ে যাওয়াই ইসরাইলের জন্য বেশি লাভজনক! এ ছাড়াও হেমেদ্‌তি ইসরাইলের প্রতি অনেক বেশি সেবাদাসত্ব করার স্পর্ধা দেখিয়েছেন এবং তার সেনারা ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যাপক হারে অংশ নিয়েছে। হেমেদ্‌তির নেতৃত্বে সুদান ভেঙ্গে আবারও নতুন দেশের উদয় হবে বলেও ইসরাইল আশা করছে ঠিক যেভাবে দক্ষিণ সুদান ইসরাইলি সহায়তা পেয়ে আলাদা হয়ে গেছে।

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এরিমধ্যে হেমেদ্‌তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায়। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন জেনারেল বুরহান যিনি ইসরাইলের সঙ্গে সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছিলেন।

যাই হোক জেনারেলদের ক্ষমতার লড়াইয়ের জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে সুদানি জনগণকে। ইসরাইল মুখে মুখে দুই জেনারেলের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিলেও প্রয়োজন মনে করলে হেমিদ্‌তিকেও ছুঁড়ে ফেলতে দ্বিধা করবে না! ফিলিস্তিনি জাতির অধিকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মুসলিম বিশ্বের প্রধানতম শত্রুর সঙ্গে জোট বাধার পরিণতি কখনও ভালো হতে পারে না। জেনারেলরা আসবে ও যাবে কিন্তু সুদানের জনমত সব সময়ই ইসরাইলের বিপক্ষে থাকবে।

আজকের বাংলা তারিখ

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  


Our Like Page