October 10, 2026, 4:47 am
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরের পদ্মপুকুরে জমির রেকর্ড সংশোধন ও নামজারি নিয়ে মানববন্ধনের জের ; আদালতের রায় ও ডিক্রি পেল প্রাধান্য মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি শুধু ডিগ্রি নয় ; প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আতপ চালের চাহিদা জানতে গবেষণা শুরু করেছে এফপিএমইউ কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা ; চট্টগ্রাম থেকে প্রধান আসামি আটক খুলনায় পুলিশ পরিদর্শককে কুপিয়ে জখম দ্রুত ইমাম মাহদীর আগমন হোক : মোজতবা খামেনি  সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তুরস্ক হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে ৪ নাগরিক নিহত যশোরের শার্শায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে আরো ২ জন আটক
এইমাত্রপাওয়াঃ

বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়ে রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ নতুন রেকর্ড গড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। মার্চ শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঋণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের জুন শেষে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার। শুধু বর্তমান সরকারের সর্বশেষ এক বছরে ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

সরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে হ্রাস

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মার্চ শেষে সরকারি খাতে ঋণ ছিল ৮৪ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, যা জুনে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারে—তিন মাসে বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ সামান্য কমেছে। মার্চে যেখানে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে। যদিও একই সময়ে বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সাত কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে, পরিশোধের অঙ্ক বেশি হওয়ায় মোট স্থিতি কমেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২২ সাল থেকে দেশে ডলারের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রতি ডলার ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় ওঠে। এতে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। সংকট মোকাবেলায় তৎকালীন সরকার বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পতন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও নতুন বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বৈদেশিক ঋণের বেশিরভাগই সরকারি প্রকল্পের জন্য নেওয়া। তবে এ ঋণের যথাযথ ব্যবহার না হলে পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “জিডিপি অনুপাতে ঋণ এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও, বৈদেশিক আয়ের তুলনায় ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে।”

২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মেয়াদ শেষে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তা বেড়ে ২০০৮ সালে দাঁড়ায় ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

২০১৩ সালের শেষে ঋণ দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার।

২০১৮ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩ সালের শেষে ঋণ দাঁড়ায় ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালে চতুর্থ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আরও প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ যোগ হয়। সরকারের পতনের সময় বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে তা বেড়ে ১১২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ১০ই অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩
  • ২৮শে রবিউস-সানি, ১৪৪৮
October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page