July 24, 2026, 10:12 pm
শিরোনামঃ
যশোরে ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার যশোরের শার্শায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযুক্ত আটক ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন শুল্ক তালিকায় বাংলাদেশ নড়াইলে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচার ওপর থেকে চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার গাজা নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ায় স্ত্রীসহ আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে : নিউইয়র্কের মেয়র
এইমাত্রপাওয়াঃ

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে ; আইসিজেকে গাম্বিয়া 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) শুনানির প্রথম দিনে মামলার বাদি পক্ষ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া অভিযোগ করেছে যে, সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যেই তাঁদের জীবনকে পরিকল্পিতভাবে বিভীষিকাময় করে তুলেছে মিয়ানমার। গত এক দশকের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো গণহত্যার মামলা যা পূর্ণাঙ্গ শুনানির পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বৈশ্বিক আইনি প্রেক্ষাপটে এই মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর রায়ের প্রভাব কেবল মিয়ানমার নয়, বরং গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান মামলার ক্ষেত্রেও একটি শক্তিশালী আইনি নজির তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী দাউদা জ্যালো আদালতের শুনানিতে রোহিঙ্গাদের করুণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এই সহজ-সরল মানুষগুলো শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। অথচ মিয়ানমার তাঁদের সেই স্বপ্নকে অস্বীকার করে ধ্বংসযজ্ঞের নিশানা বানিয়েছে।

জ্যালো আরও উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের ওপর এমন নৃশংস সহিংসতা চালানো হয়েছে যা সাধারণ মানুষের কল্পনাতীত। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ওই সময় নির্বিচার হত্যা, গণধর্ষণ এবং গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাগুলোকে জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী দল ‘স্পষ্টত গণহত্যার উদ্দেশ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

মুসলিম প্রধান ৫৭টি দেশের জোট ওআইসি-র সমর্থনে ২০১৯ সালে এই মামলাটি দায়ের করেছিল গাম্বিয়া। প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি উপস্থিত থেকে এসব অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আদালত ২০২২ সালে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তিগুলো খারিজ করে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির পথ প্রশস্ত করেন।

এর আগে ২০২০ সালে আইসিজে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার এবং গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান শুনানিটি সেই মূল অভিযোগগুলো প্রমাণের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১৪ কার্যদিবস ধরে এই আইনি লড়াই চলবে। এই দফার শুনানিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথমবারের মতো সরাসরি রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তবে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই বিশেষ সাক্ষ্যদানের সেশনগুলোতে সাধারণ জনগণ বা সংবাদকর্মীদের উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বিচারের মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অবশেষে ন্যায়বিচার পাবে।

আজকের বাংলা তারিখ

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page