অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : গত সপ্তাহের শেষে ঐতিহাসিক শীতকালীন ঝড়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় এক ফুটেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার তুষারপাত হয়েছে।
পরবর্তী ঝড় আঘাত হানার আগেই জমে থাকা বরফ সরাতে কাজ শুরু করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশালাকৃতির তুষার গলানোর যন্ত্র ‘স্নো হট টাব।’
এই সব যন্ত্র এক ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১২০ টন পর্যন্ত বরফ গলাতে সক্ষম।
এই কার্যক্রমে দিনরাত কাজ করছেন আড়াই হাজারের বেশি নগরকর্মী।
উত্তর আমেরিকার অন্যান্য শহর ও বিমানবন্দরে এই তুষার গলানোর যন্ত্র ব্যবহৃত হলেও নিউইয়র্কে এত বড় পরিসরে এগুলো শেষবার ব্যবহার করা হয়েছিল ২০২১ সালে।
নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ঝড় থেমে গেলেও তাপমাত্রা এখনও হিমাঙ্কের নিচে রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে বরফ গলার কোনো লক্ষণ নেই।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও তাৎক্ষণিক উষ্ণতার কোন ইঙ্গিত নেই। বরফ সরিয়ে রাস্তার পাশে জড়ো করা হলেও, তা এখনও পথচারী ও চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত বরফ সরাতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাভিয়ের লোহান বলেন, ‘আমরা যদি এটি না গলাতে পারি, তাহলে বরফ দীর্ঘদিন সেখানেই পড়ে থাকবে।’
খনন করা বরফভর্তি ট্রাক যন্ত্রগুলোর মধ্যে বরফ ঢেলে দেয়। যন্ত্রগুলো পানিভর্তি থাকে এবং দ্রুত বরফ গলিয়ে ফেলে। গলানোর সময় বের হওয়া বাষ্পে এগুলো দেখতে জ্যাকুজির মতো লাগলেও ভেতরের পানির তাপমাত্রা মাত্র ৩৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বরফ গলে যে পানি তৈরি হয়, তা পরিশোধনের পর স্টর্ম ড্রেনে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
লোহান বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হলো বাস চলাচলের রাস্তাগুলো খুলে দেওয়া। যাতে করে মানুষ নির্বিঘ্নে বাসে ওঠানামা করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মস্থল বা স্কুলে যেতে পারে।’