অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : নেপালে গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পরিকল্পনামতো এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ৫ মার্চ দেশটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি মঙ্গলবার রাতে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নির্ভীক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি ভোটারদের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
৩ কোটি মানুষের এই হিমালয় রাষ্ট্রে ২০২৫ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় তৎকালীন সরকার। দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পার্লামেন্ট ভবনও। ওই ঘটনার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। কমিশনের কর্মকর্তা সুমন ঘিমিরে এএফপি’কে বলেন, ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভার নির্বাচনে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ তরুণ এবারই প্রথম ভোট দেবেন।
প্রতিবেশী ভারত ও চীনসহ কয়েকটি দেশ নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সহায়তা দিচ্ছে। জানা গেছে, চীন ও জাপান আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনে ৮৬টি পিকআপ ভ্যান সরবরাহ করেছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে উপকরণ পৌঁছাতে ৬০টির বেশি ট্রাক ও হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হচ্ছে।
সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে। দক্ষিণাঞ্চলের সারলাহি জেলার ২৩ বছর বয়সী ভোটার কৃতিকা মিশ্র বলেন, দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে, প্রার্থীরাও সক্রিয় প্রচারে ব্যস্ত।
২০০৬ সালে এক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং মাওবাদীরা মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের সহিংসতা ছিল সে সময়ের পর সবচেয়ে বড় অস্থিরতা বলে মনে করা হচ্ছে।