ফারুক আহমেদ, মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কাজের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা-টাকা) প্রকল্প তালিকার ক্রমিক নং ১৬ বালিয়াডাঙ্গা গোরস্থানের সামনের রাস্তা হতে সুরমান মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন কাজ এই কাজের বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ৪ লাখ টাকা। প্রকল্প নম্বর ১৭ পাকা কাঞ্চনপুর আলম মোল্যার বাড়ি হতে হাসান মুন্সীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন এই কাজের বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ৩ লাখ টাকা। প্রকল্প নম্বর ১৮ দত্ত মালঞ্চী বড় রাস্তা হতে কাজলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ৩ লাখ টাকা।
গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা- খাদ্যশস্য-গম) প্রকল্প তালিকার ক্রমিক নং ০৬ কামার বালিয়াডাঙ্গা বড় রাস্তা হতে বিলের অভিমুখের রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত গমের পরিমাণ ৬ মেট্রিক টন।
কাবিখা-চাল প্রকল্প নম্বর ০৭ দত্ত মালঞ্চী হাকিম বিশ্বাসের বাড়ি হতে বিল পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ৬ মেট্রিক টন।

গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি,আর) সাধারণ এর তালিকা নিম্নরুপ ক্রমিক নং ২১ আর ০৯ নং ওয়ার্ডের লক্ষীপুর পাকা রাস্তা হতে মোহর মোল্যার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ২২ দত্ত মালঞ্চী ইরফান মোল্লার বাড়ির পার্শ্ব হতে ছব্দাল মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ২৩ দক্ষিণ মির্জাপুর মতলেবের বাড়ির সামনের রাস্তায় মধ্যবর্তী কাচা রাস্তার অংশটুকু রাস্তা ফ্লাট সলিং এবং ভায়া আশরাফের বাড়ি হতে সিদ্দিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ২৪ রাঘবদাইড় পাকা রাস্তা হতে মসলেমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ২৫ রাঘবদাইড় বাজার হতে শান্তিরাম পালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ২৬ হাট মালঞ্চী বিনদের বাড়ির বড় রাস্তা হতে সুজনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ৬৭ রাঘবদাইড় ইউনিয়নের পাকা কাঞ্চনপুর জামে মসজিদ উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ২ লাখ টাকা। ক্রমিক নং ৬৮ রাঘবদাইড় ইউনিয়নের পূর্ব শিকদারপাড়া জামে মসজিদ উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ৭১ রাঘবদাইড় ইউনিয়নে ০৮ নং ওয়ার্ডের অর্ন্তগত রাঘবদাইড় গ্রামের আব্দুল্লাহর বাড়ি হইতে রাঘবদাইড় আড়পাড়া রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ২ লাখ টাকা। ক্রমিক নং ৭৯ ধনপাড়া পাকা রাস্তা হইতে আস্কার প্রফেসারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি ও ইট দ্বারা উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ৪ লাখ টাকা। ক্রমিক নং ৯৬ ধনপাড়া বাজার জামে মসজিদ উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ক্রমিক নং ৯৯ রাঘবদাইড় ০৬ নং ওয়ার্ড শ্রীফলতলা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ উন্নয়ন বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সরজমিনে সোমবার ১৫ ফেব্রুয়ারী পরিদর্শনে দেখা যায় রাস্তার দুইপাশে ১ ফুট থেকে দেড় ফুট মাটি দেওয়া নেই কোন রকম হেজিংয়ের পাশে অল্প মাটি দেওয়া আছে এছাড়াও মাটিতে ইট বিছানোর সময় ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি বালি দেওয়ার নিয়ম থাকলে সামান্য আফ ইঞ্চির নিচে বালি দেওয়া হয়েছে অথবা কোন কোন স্থানে সরাসরি মাটির উপর ইট বসানো হয়েছে। কাজ হয়েছে ১ সপ্তাহ ইতিমধ্যেই জায়গায় জায়গায় ইট উঠে যাচ্ছে ও ধ্বসে যাচ্ছে। কাজের ফুট ৫০ টাকা হিসেবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় মিস্ত্রিদের। তাহলে এইসব লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দে ব্যয় হলো কত টাকা?
উদাহরণ হিসেবে একটা কাজের টাকার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার ২ টাকা এখানে কাজ করা হয়েছে ৪০৬ ফুট ও অন্য রাস্তায় ২৫ ফুট। এখানে ইন্টার ইট প্রায় ১২ হাজার ৫ শত ইট লেগেছে যার বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, মিস্ত্রি বিল ২০ হাজার টাকা, ৬ গাড়ি বালি ৬ হাজার টাকা, পিআইও অফিসে শতকরা ১২% কমিশন ৩০ হাজার টাকা মোট খরচ ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা তাহলে প্রশ্ন অবশিষ্ট ৭৪ হাজার ২ টাকা কার কার পকেটে।
রাঘবদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, সঠিক নিয়মে প্রকল্পের কাজ চলছে এবং পিআইওর কাছে শুনতে বলেন। তার সাথে কথার সময় সাংবাদিকের সাথে গড়িমসি কথা ও রাগান্বিত স্বরে কথা বলেন।
৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হারুন অর রশীদ বলেন, ৫২০ ফুট কাজ করেছি তবে তিনি টোটাল কাজের ব্যয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার হিসাব দেন আর বাকি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ব্যয়ের হিসাব খরচ কোথায় হলো এটা বলতে পারে নাই তিনি বলেন বেশির ভাগ কাজ করেছে প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম আপনি নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলেন।
কিন্তু রাঘবদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের সমস্ত টিআর, কাবিখা ও কাবিটার কাজ গুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, সরকারি বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ ১ম কিস্তির টাকা দিয়ে সম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করেছে। এভাবে সমস্ত কাজগুলো ফাঁকি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে হরিলুট চলেছে এই রাঘবদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্প বরাদ্দ কাজগুলোতে।
উক্ত বিষয়ে মাগুরা মাগুরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আবু সাঈদ মন্ডল জানান, আমাদের কে পিআইসি মেম্বাররা কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা বলেনি এবং আমরা রাস্তা দেখি নাই। ইস্টিমেট অনুযায়ী কাজ বুঝে না দিলে ও কাজের ফাঁকি দিলে বিল পরিশোধ করা হবে না। সরকারি নিয়মমাফিক বিধিমোতাবেক কাজের ব্যয় টাকা মিলাতে না পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন প্রয়োজন হলে পুনরায় সঠিক নিয়মে কাজ করানো হবে। আর ১২% কমিশন নেওয়া হয় না।