অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে শত্রুপক্ষের ১৬০টিরও বেশি ড্রোন এবং কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। দেশটির ন্যাশনাল এয়ার ডিফেন্সের জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্স দাবি করেছে, উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোন ও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার মোকাবিলায় তারা এখন সম্পূর্ণভাবে স্বনির্ভর।
ইরানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি এক বিবৃতিতে বলেন, আধুনিক দেশীয় প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করে তাদের বাহিনী আকাশপথে শত্রুর ওপর ‘অ্যাম্বুশ’ বা অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম। তার ভাষায়, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যা উন্নত ড্রোন এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সহজেই ধ্বংস করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি বাহিনী ইতোমধ্যে ‘হার্মিস’ ও ‘লুকাস’-এর মতো উন্নত ড্রোনসহ বহু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এলহামি দাবি করেন, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও নতুন কৌশল, যা শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানে ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে একজন পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও অন্য সদস্যকে খুঁজতে এখনো অভিযান চলছে দুর্গম এলাকায়।
এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনীর বিশেষ ‘প্যারা-রেসকিউ জাম্পার’ দল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (সিএসএআর) মিশন। ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও রিফুয়েলিং বিমানসহ অন্তত ২৪ জন সদস্য এতে যুক্ত আছেন। তাদের লক্ষ্য শত্রু এলাকায় প্রবেশ করে নিখোঁজ সদস্যকে উদ্ধার করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।
ইরানি কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন ও উদ্ভাবনী কৌশল যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে শত্রুপক্ষের ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে তারা মনে করছেন।