অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানি সামরিক বিমান অবস্থান করার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের দাবি করা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার (১২ মে) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে বর্ণনা করেছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিবিএস নিউজের এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ‘শ্রেণিবদ্ধ এবং অনুমাননির্ভর’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা। পাকিস্তান সরকার এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানি বিমানগুলো মূলত যুদ্ধবিরতি চলাকালীন দেশটিতে এসে পৌঁছেছে। এই বিমানগুলোর উপস্থিতি কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতির অংশ ছিল না বরং তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।
পাকিস্তান বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে এবং এই অবস্থান থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান সব সময় ‘আন্তরিক প্রচেষ্টাকে’ সমর্থন করে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে সিবিএস নিউজ অজ্ঞাতনামা মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে ছিল, তখন ইরান তার মূল্যবান সামরিক বিমানগুলো রক্ষার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বিমানঘাঁটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাওয়ালপিন্ডির গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানের একাধিক গোয়েন্দা ও রিকনেসান্স বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান শুরু থেকেই এই তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করে আসছিল এবং সর্বশেষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করল।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সময়ে এমন খবর ছড়ানো পাকিস্তানের জন্য বেশ বিব্রতকর। তবে ইসলামাবাদ তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, তারা কোনো বিশেষ পক্ষ না নিয়ে বরং অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বদ্ধপরিকর।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনটি তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে কোনো প্রকার গোপন সামরিক আঁতাতের ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।