অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানকে দেওয়া অন্যতম বড় ছাড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ও দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি শিগগিরই হতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা কখনোই সম্মত হবেন না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। চুক্তিতে ইরান যদি সত্যিই হরমুজে কর্তৃত্ব স্থাপনের সুযোগ পায়, তাহলে সেটি আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
অঞ্চলজুড়ে বৃহত্তর কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে ইরান ও ওমান হরমুজ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান বলেছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাহাজ যাওয়া ও আসা- দুটিই ইরানি জলসীমা দিয়ে হবে।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা আঞ্চলিক ও ইরানি সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছেন, এখনও কয়েকটি বড় বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। একইসঙ্গে প্রণালি পুনরায় খোলার চুক্তি আসন্ন বলে ট্রাম্পের দেওয়া ইঙ্গিতও তারা নাকচ করে দিয়েছেন।
আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছে, হরমুজের ওপর কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এরই মধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণের সংজ্ঞা কেমন হবে সে বিষয়ে এখনও খুঁটিনাটি নির্ধারণ হয়নি। উপসাগরীয় আলোচকেরা বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোই জাহাজ তদারকি করবে। যেকোনো ধরনের ফি হতে হবে স্বেচ্ছাসেবামূলক।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার মতে, তেহরান কার্গোর মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি নির্ধারণ করতে চাইছে। ওমান চাইছে এটি ৩ শতাংশ করতে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ফি আরোপ করতে দিতে চায় না।
ইরানি সূত্রটি বলেছেন, আলোচনার টেবিলে থাকা চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, প্রণালি দিয়ে উপসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে। বিপরীত দিক থেকে আসা জাহাজের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না সেটি মতবিরোধের বড় একটি বিষয়।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে উভয় কার্যক্রমই ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌলিক সমঝোতা হয়েছে এবং চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।