অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ঝিনাইদহের মহেশপুরে গোয়ালঘরের পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধ নিহত হওয়ার মামলায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যশোরের চৌগাছা ও কেশবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মহেশপুর উপজেলার ১১ নম্বর মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের হুদা শ্রীরামপুর গ্রামে গোয়ালঘরে গরু গোসল করানোর সময় পানি পাশের স্কুলের জায়গায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল জব্বার (৬০) বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল জব্বারকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর মহেশপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩১ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩০২/৩৪/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পর মহেশপুর থানার একটি বিশেষ দল তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) সৈকত মল্লিকের নেতৃত্বে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, মোবাইলের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে যশোরের চৌগাছা এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি মো. বিদ্যুৎ (২৭) ও মো. জেহের আলী (৫৬)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেশবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি মো. পলাশ (৩৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান বলেন, অপরাধীরা যত কৌশলেই আত্মগোপনে থাকুক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। মহেশপুরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।