অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : নওগাঁর ধামইরহাটে ছাগলে জমির করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল কাশেম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামে আব্দুল হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনির জমির করলা গাছ একটি ছাগল খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কৃষক আবুল কাশেম ও রনির পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় রাকিবুল ইসলাম রনি ধারালো ছুরি দিয়ে আবুল কাশেমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে পুলিশ জানায়। এতে কাশেমসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আহতদের জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম মারা যান। তাঁর স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটকরা হলেন—বড়শিবপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল হাকিম (৬০) ও কফিল উদ্দিন (৬৫), ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫), ইসমাইল হোসেনের মেয়ে হামিদা বেগম (৩৮), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম রনির স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (২১)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।
এ ঘটনায় নিহত আবুল কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে শুক্রবার রাতে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় সাত আসামিকে আটক করে পুলিশ।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হত্যা মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে সাত আসামিকে আটক করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।