ফারুক আহমেদ, মাগুরা : মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সাকের হোসেন (৩৬) হত্যা এবং সদর উপজেলার রামনগর বাজারে স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পৃথক দুই মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, দুটি মোটরসাইকেল, একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে মাগুরা পুলিশ লাইনসের প্যারেড গ্রাউন্ড মিলনায়তনে জেলার সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তাঁকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি ও মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় ২৮ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মণ্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)।
তাঁদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি কাটা সোনার বার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল (ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার) এবং একটি টয়োটা ভিটজ গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাকের হোসেনকে (৩৬) গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।
এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫১ দশমিক ৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক দুই মামলায় সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ওজন ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম।
পুলিশ সুপার আরও জানান, দুই মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেফতার মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের দ্রুত গ্রেফতার করে পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।