অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : আবারও সংঘাতময় বাখমুত থেকে নিজ বাহিনীর যোদ্ধাদের প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভেজেনি প্রিগোজিন। ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত গোলাবারুদ সরবরাহের ঘাটতির জন্য এমন ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে এমন হুমকি দিলেও তা কার্যকর করেননি তিনি।
প্রিগোজিন বলেছেন, ৯ মে নাৎসিদের বিরুদ্ধে সোভিয়েতের বিজয় উদযাপনের পরের দিন বাখমুত থেকে যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনারা ১০ মে রুশ সামরিক বাহিনীর কাছে অবস্থান হস্তান্তর করবে।’
কিছু দিন আগে ওয়াগনার যোদ্ধাদের মৃতদেহের মাঝ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটি ভিডিও করেন প্রিগোজিন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আরও অস্ত্র চেয়ে করা এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পোস্ট করেছিলেন তিনি।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনেস্ক অঞ্চলের ছোট শহর বাখমুতে গত বছরের জুলাই মাস থেকে রুশ ও ইউক্রেনীয় সেনারা তীব্র সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। রাশিয়ার কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরটিতে এক সময় বড় ধরনের জয়ের আশা করলেও বর্তমানে সে আশায় কিছুটা ভাটা পড়েছে মস্কোর। শহরটি দখলে রাশিয়ার আক্রমণের নেতৃত্বে রয়েছে ওয়াগনার যোদ্ধারা।
অঞ্চলটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের এমন হুমকির জন্য রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়ী করছেন প্রিগোজিন। মৃত যোদ্ধাদের লাশের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে করা ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘শোইগু! গেরাসিমভ! কোথায় আপনাদের গোলাবারুদ? আপনাদের অফিসে বসে আয়েশ করতে দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হয়ে লড়তে আসা যোদ্ধারা এভাবে মারা যাচ্ছে।’
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও পদাতিক বাহিনীর প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিকবার সমালোচনা করেছেন ওয়াগনার প্রধান।
গত সপ্তাহেই রুশ সামরিক ব্লগারের এক ভিডিওতে বাখমুতে ওয়াগনার যোদ্ধাদের দিন ফুরিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে চেয়েও পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ না পাওয়ায় হতাহতের সংখ্যা ৫ গুণ বেশি হচ্ছে এমন অভিযোগও করেছিলেন তিনি।
ফেব্রুয়ারিতেও এমনভাবে মৃত লাশের ছবি তুলে সেনাদের নিহতের জন্য রুশ সেনাপ্রধানকে দায়ী করেছিলেন তিনি। অবশ্য এসব দায় অস্বীকার করেছিল রুশ সেনাবাহিনী। সূত্র: বিবিসি