অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইউক্রেনের মারিউপোলে রুশবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের সময় বন্দি হওয়া আজভ ব্যাটালিয়নের ৪৫ যোদ্ধাকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। তিন রুশ পাইলটের মুক্তির বিনিময়ে তাদের ফেরত আনে ইউক্রেন। মুক্তি পাওয়ার পর শনিবার এসব যোদ্ধাদের প্রশংসা করেছে কিয়েভ। যদিও কোনও পক্ষ বন্দি বিনিময়ের বিস্তারিত জানায়নি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
২০১৪ সালে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য উগ্র-ডানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিসেবে গঠিত হয় আজভ ব্যাটালিয়ন। রাশিয়া তাদেরকে ফ্যাসিবাদী ও নব্য নাৎসি হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইউক্রেন বলে আসছে, তাদের সংস্কার করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া ইউক্রেনীয় বন্দিদের মধ্যে আজভ ব্যাটালিয়নের ৪২ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী যোদ্ধা রয়েছেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাক।
আজভ ব্যাটালিয়নের যোদ্ধারা ইউক্রেনের বন্দর নগরী মারিউপোলের ব্যর্থ প্রতিরক্ষায় লড়াই করেছিলেন। রুশ অবরোধের মধ্যে দীর্ঘ দিন টিকে থাকার জন্য এখানকার অনেক যোদ্ধা ইউক্রেনে বীর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ট্রেলিগ্রামে ইয়ারমাক লিখেছেন, এই রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে চমৎকার খবর। আমরা আমাদের ৪৫ জনকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছি। ১০ কর্মকর্তা, ৩৫ জন বেসরকারি যোদ্ধা ও সার্জেন্ট।। তবে তিনি রুশ পাইলটদের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেননি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তিনজন রুশ পাইলটকে ফেরত আনা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি কঠিন আলোচনার ফল হিসেবে রুশ বিমানবাহিনী তিন পাইলটকে কিয়েভ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
রুশ বিবৃতিতেও ইউক্রেনীয় বন্দিদের মুক্তির কোনও উল্লেখ করা হয়নি। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমেও এই বিষয়ে কোনও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার সাথে বন্দি বিনিময় সমন্বয়ে নিয়োজিত ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এই বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। প্রায় ১৫ মাসের যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক বার বন্দি বিনিময় করে দেশ দুটি। রাশিয়া এই আক্রমণকে কিয়েভ ও পশ্চিমাদের হুমকি মোকাবিরায় ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে দাবি করে আসছে। তবে ইউক্রেন ও দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা এটিকে উসকানি ছাড়াই সাম্রাজ্যবাদী ভূমি দখল হিসেবে বলে আসছে। আক্রমণের ঘটনায় রাশিয়ার ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।